সালটা ২০০৭। মহেন্দ্র সিং ধোনি তখন টিম ইন্ডিয়ার উদীয়মান তারকা। কলকাতায় এসেছিলেন ম্যাচ খেলতে। আচমকা তাঁকে ডেখে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ টপকে ছুটে গেলেন এক তরুণী। প্রকাশ্যে জাপটে ধরে চুমু এঁকে দিলেন টিম ইন্ডিয়ার সুপারস্টারের শরীরে। ১৯ বছর বাদে প্রায় একই রকম ঘটনা। এবার অভিষেক শর্মার সঙ্গে।
শনিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে রীতিমতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল টিম ইন্ডিয়ার টি-২০ দলের সুপারস্টারকে। দলের হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে আচমকা এক তরুণী তাঁকে দেখে সংযম হারালেন। অভিষেকের হাত ধরে একপ্রকার টানায়ানি শুরু করলেন তিনি। শুধু টেনে ধরাই নয়, তিনি বেশ কিছুক্ষণ অভিষেকের হাত ধরে রাখেন। সঙ্গে সেটার ভিডিও করেন তিনি। এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিষেক সদ্য বিশ্বজয়ী। দেখতে শুনতেও মন্দ নন। তাঁকে দেখে তরুণীহৃদয়ে ঝড় ওঠাটা হয়তো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তা বলে এভাবে প্রকাশ্যে টানাটানি। ওই পরিস্থিতিতে অভিষেক যে রীতিমতো বিরক্ত হয়েছেন, সেটা তাঁকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। আশেপাশে প্রচুর নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও ওই তরুণী কীভাবে অভিষেকের এত কাছে চলে গেলেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এতে অল্প হলেও অভিষেকের নিরাপত্তা ভগ্ন হয়েছে। যদিও কেউ কেউ অভিষেকের প্রতি মহিলা ভক্তের ওই অমোঘ টান অনেককেই ২০০৭ সালের ধোনির কথা মনে পড়াচ্ছে। অবশ্য দ্রুতই নিরাপত্তারক্ষীরা অভিষেকের হাত ছাড়িয়ে ওই মহিলাকে খানিকটা সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।
পরে ওই মহিলা এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। হিমশিখা নামের ওই ভক্ত প্রথমে সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, 'বন্ধুদের বলছি, তোমাদের জামাইবাবুর ভালো কথা শুনছিল না। তাই এরকম করতে হল।' অর্থাৎ এরকম যেন ইচ্ছাকৃত করেছেন ওই মহিলাভক্ত। তাতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। তখন ওই মহিলা যুক্তি দেন, অভিষেক বিখ্যাত হওয়ার আগে থেকেই তিনি ভারতীয় ক্রিকেটারের ভক্ত। যখন তিনি অভিষেকের কাছে যান, তখন খুব ভিড় ছিল। তাই ভিড়ের ধাক্কায় তিনি ছিটকে যাওয়ার সময় অভিষেকের হাত চেপে ধরেন। কিন্তু তিনি ভাবেননি, ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাবে।
এই মুহূর্তে অভিষেক খ্যাতির মধ্যগগনে। টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেই স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। মাঝে দু’একটা ভালো ইনিংস খেললেও স্বমেজাজে দেখা যায়নি টিম ইন্ডিয়ার ওপেনারকে। কোথাও যেন মনে হচ্ছিল অভিষেক নিজেকে খুঁজছেন। কিন্তু আইপিঈর নিজের সেরা ফর্মে ধরা দিয়েছেন ভারতের তারকা ওপেনার। এই মুহূর্তে কমলা টুপির মালিক তিনিই।
