আইপিএলের (IPL 2026) লিগ পর্বের খেলা শেষ। চার দল প্লেঅফের যোগ্যতা অর্জন করেছে। অল্পের জন্য জায়গা করতে পারেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ করেছে ৭ নম্বরে। সামনে মহা নিলাম নেই, ফলে দলে হয়তো আমূল পরিবর্তন করতে পারবে না। কিন্তু কয়েকজন প্লেয়ারকে ছেড়ে দিতে পারে নাইটরা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, কাদের বিদায় হতে পারে কেকেআর থেকে?
অজিঙ্ক রাহানে: প্রথম ছয় ম্যাচে জয়হীন। সেখান থেকে টানা জিতে প্লেঅফের দৌড়ে চলে আসে নাইটরা। লিগ পর্বের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিল। দলের লড়াকু মানসিকতা বজায় রাখা নিঃসন্দেহে অধিনায়ক রাহানের কৃতিত্ব। তবে প্রথম মুশকিল তাঁর ফর্ম। ১৩৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৫ রান করেছেন। পাওয়ারপ্লে’র পর তাঁর ব্যাট চলছে না। যেন অধিনায়ক বলেই প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন। যা আখেরে নাইটদের ক্ষতি করছে। দ্বিতীয়ত, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অতিরক্ষণাত্মক নীতি নিয়ে ফেলছেন।
ক্যামেরন গ্রিন: ২৫.২০ কোটি টাকা দিয়ে গ্রিনকে কিনেছিল কেকেআর। কিন্তু শুরুতে তাঁর ব্যাটে রান ছিল না। বলও করেননি। পরের দিকে কিছুটা ফর্মে ফিরেছিলেন। তবে তা ২৫.২০ কোটি টাকার মতো নয়। ১৪ ম্যাচে করেছেন ৩২২ রান। ১০ ম্যাচে তুলেছেন ৭ উইকেট। তবে গ্রিনকে হয়তো এত সহজে ছাড়বে না নাইটরা। নেটদুনিয়ায় জল্পনা, হার্দিক পাণ্ডিয়া মুম্বই ছাড়তে পারেন। তাহলে কি গ্রিনের সঙ্গে হার্দিকের ট্রেড ডিল করবে নাইটরা? সেটা হলে অধিনায়ক সমস্যাও মিটবে কেকেআরের।
বৈভব অরোরা: চোট সমস্যায় ভুগেছে কেকেআর। হর্ষিত রানা, আকাশ দীপ চোটের জন্য আগেই ছিটকে যান। মাথিশা পাথিরানার ফিট হয়ে ৮ বলে করে ফের বাইরে। এই অবস্থায় দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার বৈভব অরোরা। কিন্তু সেই ভরসা দিতে পারেননি। ১১ ম্যাচে ১১ উইকেট। ইকোনমি ১০.২৬। একেবারেই ধারাবাহিক নন। সেখানে কার্তিক ত্যাগী বা সৌরভ দুবের মতো পেসাররা উঠে এসেছেন।
রমনদীপ সিং: ২০২২ থেকে কেকেআরে। ৪ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে রিটেনও করে নাইটরা। কিন্তু ফিনিশিংয়ে চরম ব্যর্থ। ৮ ম্যাচে মাত্র ৮২ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১২০.৫৯। পরের দিকে ফিল্ডিং ছাড়া সেভাবে কোনও কাজ করেননি। বরং অনুকূল রায় তাঁর দায়িত্ব যত্নসহকারে পালন করেছেন।
ব্লেসিং মুজারবানি: নাইটদের কঠিন সময়ে ভরসা দিতে এগিয়ে আসেন। একেবারে খারাপ বোলিং করেননি। ২ ম্যাচে ৪টি উইকেট তোলেন। কিন্তু দলের কম্বিনেশন বিচার করলে জায়গা পাওয়া সম্ভব নয় ২ কোটির পেসারের। মাথিশা পাথিরানা ফিট থাকলে তাঁকেই খেলাতে চাইবে নাইটরা।
এছাড়া ছাঁটাই করা হতে পারে নবদীপ সাইনি, রাচীন রবীন্দ্রকে। প্রথমজনকে সুযোগ দেওয়া হলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। আর দ্বিতীয়জন সুযোগই পাননি।
