জাতীয় দলের ক্রিকেট নিয়ে আমজনতার আগ্রহ কি শেষ? এমনটাই অনুমান করা যায় জিও হটস্টারের ভাইস চেয়ারপার্সন উদয় শংকরের কথায়। তিনি সাফ প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতীয় দলের ম্যাচ মানেই কি সেখানে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালা হবে? আকাশছোঁয়া দামে কেনা হবে বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের ম্যাচ সম্প্রচারের স্বত্ত্ব? উদয়ের মতে, ক্রীড়াসংস্থাগুলি যেভাবে সম্প্রচার স্বত্ত্বের দাম বাড়াচ্ছে তাতে খুব তাড়াতাড়িই আগ্রহ হারাবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি। তার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হতে চলেছে ভারতীয় আমজনতার মানসিকতাও।
উদয় প্রশ্ন তুলেছেন সম্প্রচার স্বত্ত্বের দাম নিয়ে। তাঁর মতে, "ভারতের সঙ্গে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের জন্য জিও হটস্টার যা অর্থ ব্যয় করবে, সেই একই পরিমাণ অর্থ কেন শ্রীলঙ্কা বা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতে ম্যাচে কেন খরচ হবে? এটা আশা করাও ঠিক নয়।" পরিসংখ্যান বলছে, করোনা পরবর্তী সময়ে সম্প্রচার স্বত্ত্বের দাম যেভাবে হুড়মুড়িয়ে বেড়েছিল, সেই মূল্যবৃদ্ধির হার এখন কমেছে। আগামী বছর বিশ্বকাপের পর থেকে প্রত্যেক ম্যাচে সম্প্রচারের দাম অন্তত ১৩ শতাংশ কমবে বলেই মনে করছেন সমীক্ষকরা।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি জাতীয় দলের খেলা দেখতে আমজনতা আর আগ্রহী নন? যদি দর্শকদের আগ্রহ থাকত তাহলে লাভের আশায় চড়া দামে সম্প্রচার স্বত্ত্ব কেনা হত। যেহেতু ভারতীয় দলের সব ম্যাচে দর্শকদের আগ্রহ থাকছে না, সেকারণেই শ্রেণিবিভাজন হচ্ছে জাতীয় দলের ম্যাচ নিয়ে। এছাড়াও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতিরিক্ত ক্রিকেট খেলছে ভারত, তাতে দর্শকরা দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। তাঁদের মন থাকছে স্রেফ মেগা টুর্নামেন্ট এবং হাইভোল্টেজ সিরিজের দিকেই।
অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলির বিরুদ্ধে ভারতীয় দল খেললেও দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা সেই ম্যাচগুলি দেখছেন না বলেই মত উদয়ের। তিনি মনে করছেন, যে দর্শকরা ইতিমধ্যেই ক্রিকেট থেকে সরে গিয়েছেন বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের উপর বিনিয়োগ করে লাভের আশা নেই। জিও হটস্টার কর্তার মতে, ক্রিকেটের পরিমাণ কমানো উচিত, মূলত দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো। কারণ এই সিরিজে দর্শক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে সম্প্রচার স্বত্ব কেনার খরচও কমানো উচিত, নয়তো অদূর ভবিষ্যতে ক্রিকেট সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।
