স্টেডিয়ামে বসে কখনও আইপিএল দেখা হয়নি তাঁর। মূলত সেই ইচ্ছেপূরণ করতেই ভারতে আসা। শনিবার চিন্নাস্বামীতে বসে বিরাট কোহলিদের মাচ দেখেছেন। রবিবার ইডেনে এলেন। এখান থেকে মুম্বই যাবেন। তারপর চেন্নাই। আরও দু’টো ম্যাচ দেখে সেখান থেকে দেশে ফিরবেন। তাছাড়াও জানালেন, বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) মধ্যে লারাকে খুঁজে পাচ্ছেন তিনি।.
কলকাতা মানেই বিশেষ এক অনুভূতি অ্যালান বর্ডারের (Allan Border) কাছে। আসলে ইডেনের সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে সুখের স্মৃতিটাই যে জড়িয়ে। প্রায় চল্লিশ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসাবে ইডেনেই বিশ্বকাপ জিতেছিলেন বর্ডার। চার দশক পর ফের কলকাতায় ফেরা। ইডেনে ফেরা। বারবারই নস্ট্যালজিক মনে হচ্ছিল বর্ডার। স্মৃতিগুলো এখনও টাটকা। বর্ডারের মনে হচ্ছিল না, এতদিন পর তিনি আবার ইডেনে এসেছেন। বরং বারবারই মনে হচ্ছিল–এই তো সেদিন তিনি বিশ্বকাপ জিতে গেলেন! কথা বলার সময় কেমন যেন আবেগ গ্রাস করছিল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে। ক্লাবহাউসের দোতলার বক্সে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে ম্যাচ দেখলেন। তাঁরই মাঝে মিনিট দশেক কথা বললেন। আর বর্ষীয়ান কিংবদন্তির সেই সামান্য সময়ের কথার সিংহভাগ জুড়েই থাকলেন একজনই।
রবিবার ‘ইডেন বেল’ বাজাচ্ছেন অ্যালান বর্ডার। পাশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের কিশোর ওপেনার। গত আইপিএল থেকেই যেরকম ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছেন বৈভব, তা দেখে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। অবশ্য শুধু মুগ্ধ বললে ভুল বলা হয়। পনেরো বছরের বৈভবের ক্রিকেট তাঁকে এতটাই প্রভাবিত হয়েছেন যে, বর্ডারের মনে হচ্ছে এক বছরের মধ্যে ভারতীয় টেস্ট টিমেও চলে আসতে পারেন এই তরুণ প্রতিভা। বর্ডার বলেন, “প্যাট কামিন্স, ক্রেগ ম্যাকডারমট–এদেরও অনেক কম বয়সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক হয়েছে। বৈভবের মধ্যে স্পেশাল কিছু দেখছি। এত কম বয়স। কিন্তু কী মারাত্মক টেম্পারেমেন্ট। টেকনিকও অসম্ভব ভালো। দেখুন, কম বয়সে কিছু ভুলচুক সবাই করে। একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ভারতীয় ক্রিকেটের যা সিস্টেম, তাতে বৈভবের ঠিকঠাক পরিচর্যা করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ও যদি ভারতীয় টেস্ট টিমে সুযোগ পেয়ে যায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”
ভয়ডরহীন মানসিকতা। ব্যাটিং স্টাইল। শট খেলার সহজজাত প্রতিভা। বৈভবের সঙ্গে একজনের খুব মিল খুঁজে পাচ্ছেন বর্ডার। ব্রায়ান চার্লস লারা। অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি কথাগুলো যখন বলছিলেন, অদ্ভূত এক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তাঁর মধ্যে। আর কী সমাপতন দেখুন। বৈভবের আইডলও যে সেই লারা! বর্ডারের কথায়, “বৈভবের ব্যাটিং দেখে আমার লারার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। লারাও কিন্তু একটু আলাদা ধরনের ছিল। ওর ব্যাটিং স্টাইল, শট খেলা–সবকিছুই। বৈভবের মধ্যে আমি ঠিক সেই ব্যাপারটাই লক্ষ্য করেছি। লারার যেরকম ব্যাট সুইং ছিল, সেটা বৈভবের মধ্যে রয়েছে। কী অসম্ভব জোরে শট খেলে। একবার ভাবুন শুধু। ছেলেটার এখন মাত্র পনেরো বছর বয়স। এখনই এরকম ব্যাটিং করছে। যখন ওর বয়স আরও বাড়বে, আরও পরিণত হবে, তখন কীরকম খেলবে!”
