এবারের আইপিএলে দুরন্ত ফর্মে রয়েছে পাঞ্জাব কিংস। এখনও পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল তারা। দলের ব্যাটারদের মধ্যে যেন ছক্কা হাঁকানোর প্রতিযোগিতা চলছে। এখনও পর্যন্ত ৬ ম্যাচে (এর মধ্যে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত) ৬৯ ছক্কা হাঁকিয়েছে প্রীতি জিন্টার দল। আর তার নেপথ্যে রয়েছে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের দেওয়া এক মজার চ্যালেঞ্জ।
লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারানোর পর সেই ‘গোপন রহস্য’ নিজেই ফাঁস করেন শ্রেয়স। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি কুপার ও প্রিয়াংশকে বিষয়টা বলেছি। ওদের একটা প্রতিযোগিতার কথাও বলি। বলেছি, এবারের আইপিএলে যে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকাতে পারবে, তাকে উপহার হিসাবে আমার ব্যাট দেব। দু'জনের মধ্যে লড়াই দেখে খুব ভালো লাগছে।”
পাঞ্জাব অধিনায়কের দেওয়া এই চ্যালেঞ্জ যেন বাড়তি আগুন জ্বালিয়েছে পঞ্জাবের ব্যাটিংয়ে। প্রথম ম্যাচে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ১৪টি ছক্কা দিয়ে শুরু। তারপর চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৯, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১৬, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৯ এবং রবিবার লখনউয়ের বিরুদ্ধে তো একেবারে ঝড় তুলে ২১টি ছক্কা হাঁকান পঞ্জাবের ব্যাটাররা। সেই ম্যাচে প্রিয়াংশ আর্য ৯টি ও কুপার কনলি ৭টি ছক্কা মারেন।
তবে ছক্কার লড়াইয়ে আপাতত এগিয়ে প্রিয়াংশ। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২০টি ছক্কা। কুপার কনলি ও শ্রেয়স আইয়ার দু’জনেই মেরেছেন ১৪টি করে। আর প্রভসিমরন সিং হাঁকিয়েছেন ১১টি ছক্কা। রবিবারের ম্যাচে প্রিয়ংশ আর্য এবং কুপার কনলি যথাক্রমে ৯৩ এবং ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। লখনউয়ের বিরুদ্ধে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন প্রিয়াংশ ও কনলি। দু’জনে মিলে মাত্র ৮০ বলে ১৮২ রানের দুরন্ত জুটি গড়েন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাঞ্জাব তোলে ৭ উইকেটে ২৫৪ রান। যা এই আইপিএল মরশুমের সর্বোচ্চ স্কোর।
দলের সাফল্যের রহস্য হিসাবে শ্রেয়স নিজের সহজ দর্শনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি ব্যাটারদের নিজের মতো খেলতে দেওয়া উচিত। ওটাই মন্ত্র। প্রত্যকেরই নিজস্ব পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি থাকে। সুতরাং এক্ষেত্রে বেশি কথা বলা সাজে না। খেলার আগে আমি আর পন্টিং সাধারণ কিছু কথা বলি। বাকিটা ওরা মাঠে নেমেই করে।” উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে পাঁচটি জিতে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পঞ্জাব কিংস। কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্যাচ ইডেনে বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ১ পয়েন্ট পেয়েছিল পাঞ্জাব। আর তিনটি ম্যাচ জিতলেই তাদের সামনে প্লে-অফের দরজা প্রায় খুলে যাবে। তবে শুধু যোগ্যতা অর্জন নয়, গ্রুপের বাকি সব ম্যাচ জিতে শীর্ষে থেকেই শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে শ্রেয়সদের দল।
