ডেভিড মিলারের ম্যাচের শেষলগ্নে হঠাৎ হলটা কী? আকস্মিক 'ব্রেনফেড'? নাকি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ডোবাল দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটারকে?
গুজরাট টাইটান্সের ২০ ওভারে তোলা ২১০-৪ তাড়া করতে নেমে শেষ দুই বলে দু'রান দরকার ছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের। ক্রিজে ছিলেন ডেভিড মিলার (২০ বলে ৪১ নটআউট)। যিনি টিমকে প্রায় হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছিলেন। উলটো দিকে কুলদীপ যাদব। যিনি অন্তত ব্যাটে বল ছোঁয়াতে পারেন।
ইনিংসের শেষ ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর পঞ্চম বলে এক রান নিয়ে খেলা টাই করে সুপার ওভারে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মিলারের সামনে। কিন্তু ক্রিজের উলটোদিকে কুলদীপ যাদব থাকায় সবাইকে অবাক করে রানটা তিনি নিলেন না। আসলে মিলার একটু বেশি আত্মবিশ্বাসে ভুগছিলেন। কেনই বা ভুগবেন না। তার আগের ওভারেই তিনি ২২ রান তুলেছেন। শেষ ওভারের চতুর্থ বলেও ১০৬ মিটারের ছক্কা হাঁকিয়েছেন। কিন্তু সেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হল। পঞ্চম বলে সিঙ্গল না নিয়ে শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে গেলেন! পরিণাম? পরিণাম-শেষ বলে মিলারের মিস। কুলদীপ রান আউট। এবং দিল্লির অবিশ্বাস্য ১ রানে ম্যাচে হার!
ম্যাচের শেষে প্রত্যাশিতভাবেই ভেঙে পড়েন মিলার। শেষ দু'বলে দুই রান তুলতে না পারা তাঁর মতো ফিনিশারের কাছে স্রেফ অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে যেভাবে তিনি সিঙ্গল নিলেন না সেটাও অভাবনীয়। যদিও ওই হারের পর দলের মহাতারকার পাশেই দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। ম্যাচ শেষে দেখা যায় তিনি মিলারকে জড়িয়ে ধরেন। অক্ষর মিলারকে সান্ত্বনা দিতে বেশ কিছুক্ষণ তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
তবে দিল্লির দুই ওপেনার রাহুল এবং পাথুম নিশাঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিলেন তাতে একটা সময় মনে হয়েছিল দিল্লির জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। অফ ফর্ম কাটিয়ে বুধবার রানে ফিরলেন রাহুল। তিনি ৫২ বলে ৪টি ছয় ও ১১টি চারের সাহায্যে করলেন ৯২ রান। পাথুম এবং রাহুল প্রথম উইকেটের জুটিতে ৭৬ রান যোগ করেন। পাথুম ২৪ বলে ১টি ছয় ও ছ'টি চারের সাহয্যে করেন ৪১ রান। তিনি আউট হতেই পরিস্থিত পাল্টে যায়। পরপর ফিরে যান নীতীশ রানা (৫) এবং এবারের আইপিএলে চমক তৈরি করা সমীর রিজভি (০)। ট্রিস্টিয়ান স্টাবস (৭), অক্ষর (২), বিপরাজ নিগমও (১২) রান পাননি। ডেভিড মিলার চোটের কারণে প্রথমে মাঠ ছেড়ে চলে যান। শেষ দিকে নেমে একটা মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিজের দোষেই তাঁকে ডুবতে হল। তাঁর টিমকে ভুগতে হল। খেলা শেষে যতই তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে যান দুই টিমের ক্রিকেটাররা, এই ম্যাচে নায়ক ও খলনায়ক দু'টোই তিনি-ডেভিড মিলার!
