বুধবার সন্ধেয় সুনীল নারিনরা যখন ইডেন ছাড়ছেন, অঝোরে বৃষ্টি চলছে। আকাশের মুখ ভার। কেকেআর ড্রেসিংরুমের আবহও যেন অনেকটা একইরকম। নিস্তব্ধ। নিশ্চল। জনা কয়েক সমর্থক তখন ক্লাব হাউসে দাঁড়িয়ে। কিন্তু প্রিয় টিমকে নিয়ে উন্মদনার সামান্য রেশটুকুও চোখে পড়ল না। ক্যামেরন গ্রিন থমথমে মুখ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। পরপর দুটো ম্যাচে হারের পর বৃষ্টির ‘দয়ায়’ পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট এসেছে। টিকিটের হাহাকার নেই। বক্স অফিসের সামনে লম্বা লাইন যেন ফিনিক্স পাখি হয়ে গিয়েছে। ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে অতি সহজে। কলকাতায় আইপিএল দুনিয়ার যে ছবি বড্ড বেমানান! ভাবলে অবাক লাগে দু’বছর আগে নববর্ষের প্রাক্কালে এই ম্যাচ ঘিরে কী পরিমাণ হাহাকার দেখেছিল শহর? তাহলে কি ঘরের টিমের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল কলকাতা? শাহরুখ খান নিজে আসছেন, কিন্তু ইডেনের গ্যালারি অর্ধেকও ভরছে না। কবে এই দৃশ্য দেখেছে কলকাতা?
ম্যাচের আগের দিন প্র্যাকটিসে নেই কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। বরুণ চক্রবর্তী নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ এখন ছেয়ে কেকেআরের ড্রেসিংরুমে। টিম যখন ইডেনে ট্রেনিং করছেন, বরুণ তখন ইন্ডোরে। প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক সেখানেই ট্রেনিং করলেন। রাতের দিকে কেকেআর শিবিরের তরফে বলা হল, নেটে তিনি পুরোদমে বোলিং করছেন। তারপরও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না তিনি খেলবেন! কেকেআরের কাছে আশার বাণী বলতে শুধুই সুনীল নারিনের ফিট হয়ে ওঠা। আর ক্যামেরন গ্রিনের বোলিং নিয়ে সামান্য সবুজসঙ্কেত মেলা।
অসুস্থতার জন্য নারিন আগের ম্যাচে খেলেননি। এখন অনেকটাই সুস্থ। বুধবার নেটে দীর্ঘক্ষণ বোলিং করলেন। তবে কেকেআরের আসল সমস্যা গ্রিন। নিলামে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডারকে কিনেছে নাইটরা। এখনও পর্যন্ত গ্রিনের অবদান- তিন ম্যাচে সবমিলিয়ে ২৪ রান। যা শোনা যাচ্ছে, তাতে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে বোলার গ্রিনের প্রত্যাবর্তন হতে পারে। আগের দিন নেটে অনেকটা সময় বোলিং করেন তিনি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নাকি বোলিংয়ের জন্য ছাড়পত্র দিয়ে দিতে পারে। সেটা হলে টিমের ভারসাম্য কিছুটা ঠিক হবে। তবে কেকেআর ব্যাটিং আর বোলিং- যে পরিমাণ ব্যর্থ হচ্ছে, তাতে আশঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না সমর্থকরা। বরং বৃহস্পতিবার ইডেনে মহম্মদ শামি, প্রিন্স যাদবদের সামনে নাইট ব্যাটিংয়ের হাল আরও দশা করুণ হয় কি না, সেটা নিয়েই চর্চা চলছে।
কেকেআর শিবির যতটাই স্তব্ধ, ঠিক ততটাই ফুরফুরে লখনউ সুপার জায়ান্টস। এই শহরের সঙ্গে তাদেরও যে একটা যোগ রয়েছে। টিমের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার শহর একটা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচটা শাহরুখের কাছে যেমন, সঞ্জীবের কাছেও এই ম্যাচটা একইরকম। আবেগের। সম্মানের। প্রথম ম্যাচে হারের পর লখনউ জিতেছে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে। গোয়েঙ্কার মতো আরও একজন রয়েছেন, যাঁর কাছে এই ম্যাচের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মহম্মদ শামি। এই শহরের সঙ্গে সম্পর্ক বহুদিনের। শামির ক্রিকেটীয় উত্থানের সাক্ষী এই শহর। নিজের শহরে ফিরে শামি নিজেও কিছুটা নস্ট্যালজিক। ইডেনের প্রতিটা ঘাসের সঙ্গে তাঁর বহুদিনের বন্ধুত্ব। জানেন এখানকার পিচের চরিত্র। এদিন আর নেটে বিশেষ বোলিং করলেন না। বেশিরভাগ সময়টাই কাটালেন নেটের পিছনে দাঁড়িয়ে। শোনা গেল, ম্যাচে শামিকে তরতাজা রাখতেই এই বিশেষ কৌশল লখনউয়ের। মাঠে ঢুকে কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে সোজা চলে গেলেন উইকেটের কাছে। বেশ কিছুক্ষণ গল্প চলল দু’জনের। শোনা গেল, পিচ দেখে ভারতীয় পেসার বেজায় খুশি। কেকেআর ব্যাটিংয়ের কাছে শামি যে আজ বড় ‘কাটা’ সেটা বুঝতে গেলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না। এর সঙ্গে আবার রাহানেদের সামলাতে হবে লখনউয়ের ব্যাটিং পাওয়ার হাউসকে। মিচেল মার্শ, এডেন মার্করাম, নিকোলাস পুরান, ঋষভ পন্থরা বুধবারের ইডেনে যেরকম রেঞ্জ হিটিংয়ের মহড়া সেরে গেলেন, তাতে নাইট বোলিংয়ের কাছে কাজটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের।
