১১ জন সমর্থকের মৃত্যুর স্মৃতি এখনও দগদগে! তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কড়া বেঙ্গালুরু পুলিশ। টানা দু'বার আইপিএল জেতার সুযোগ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে। বিরাট কোহলিদের হাতে ট্রফি দেখার অপেক্ষায় দক্ষিণী শহর জুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে উচ্ছ্বাসের মাঝেই সতর্কবার্তা দিল বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। মেগা ফাইনালের পর সমর্থকদের কঠোরভাবে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ফাইনাল শেষ হওয়ার পর কোনওভাবেই জনবহুল এলাকায় সেলিব্রেশন করা যাবে না। রাস্তার ধারে এলইডি স্ক্রিন বসানো বা অনুমতি ছাড়া বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, “ফাইনালের পর সমর্থকরা কোনওভাবেই জনবহুল জায়গায় সেলিব্রেশনে অংশ নিতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রাস্তায় এলইডি ওয়াল বসানো যাবে না। আগে থেকে যেসব স্ক্রিন রয়েছে, সেখানে ম্যাচ সম্প্রচারও করা যাবে না।”
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ফাইনাল শেষ হওয়ার পর কোনওভাবেই জনবহুল এলাকায় সেলিব্রেশন করা যাবে না। রাস্তার ধারে এলইডি স্ক্রিন বসানো বা অনুমতি ছাড়া বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এছাড়াও বাজি ফাটানোর উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ভিড় এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, “মল, পাব বা অন্যান্য স্থানের বাইরে এমনভাবে স্ক্রিন বসানো যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষ তা দেখতে পারেন।” ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বাইক র্যালি, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, স্টান্ট করা, অযথা হর্ন বাজানো বা রাস্তা অবরোধের মতো কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য, “বাইক র্যালি, ওভারস্পিডিং, স্টান্ট, হর্নের অপব্যবহার এবং রাস্তা অবরোধ - সবই নিষিদ্ধ। নাগরিকদের ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।” একই সঙ্গে প্রকাশ্য স্থানে মদ্যপান করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মারামারি বা অশোভন আচরণ থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোশাল মিডিয়াতেও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ বলেছে, “উসকানিমূলক পোস্ট, বিদ্বেষমূলক বার্তা বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ম্যাচের ফলকে কেন্দ্র করে অন্য দলের সমর্থকদের উসকানি দেওয়া বা অপমান করা চলবে না। আইন-শৃঙ্খলা, জনশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”
প্রকাশ্য স্থানে মদ্যপান করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মারামারি বা অশোভন আচরণ থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই বিপাকে ছিল চিন্নাস্বামী। দলের সেলিব্রেশনের সময় স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে আহতের সংখ্যা ৪৭। ওই ঘটনার দায় কার? তা নিয়ে দীর্ঘদিন দড়ি টানাটানি চলেছে। অবশেষে কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা সরকারের কাছে চিন্নাস্বামীতে ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি পায় আরসিবি। সেখানে এবার একাধিক ম্যাচও হয়েছে। এবার ফাইনাল আয়োজিত হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। তবে ফাইনালের পর বেঙ্গালুরুতে যাতে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা না হয়, তা নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক বেঙ্গালুরু প্রশাসন। সেই কারণে সমর্থকদের কঠোর নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
