প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে দু’শোর উপর রান করে পাঞ্জাবের কাছে হারতে হয়েছে ধোনিহীন চেন্নাইকে। তৃতীয় ম্যাচেও ছবিটা বদলায়নি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৪৩ রানে হার স্বীকার করেছে ধোনিহীন চেন্নাই (CSK Vs RCB)। অবাক করে দেওয়ার মতো তথ্য হল, আইপিএলে ৬৫৬১ দিনে প্রথমবার ২৫০ রান হজম করল তারা। সব মিলিয়ে হারের হ্যাটট্রিকে লিগ টেবিলের সবার শেষে চেন্নাই।
২০২৩ সালে শেষবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে শনির দশা শুরু হয়েছে সিএসকে'র। ২০০৮ সালের আইপিএলে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলার পর থেকে এই প্রথম তাদের বিরুদ্ধে কোনও দল আড়াইশো করল। গতবার চেন্নাই শুধু যে নকআউটে যেতে পারেনি, তা নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে প্রথমবার সবার পরে, দশ দলের প্রতিযোগিতায় দশম স্থানে শেষ করে তারা। এরপর মিনি নিলাম থেকে দলে একঝাঁক পরিবর্তনও করে সিএসকে। একসময় ‘ড্যাডস আর্মি’ বলে পরিচিত দলে এখন তরুণ প্রতিভার ভিড়। মিনি নিলামের পর সবচেয়ে বেশি চর্চায় ছিলেন প্রশান্ত বীর এবং কার্তিক শর্মা। দুই ক্রিকেটারকে দলে নিতে খরচ করেছে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা করে। যা আইপিএলে ইতিহাস। দু'ম্যাচ খেললেও রবীন্দ্র জাদেজার জায়গায় সুযোগ পাওয়া অলরাউন্ডার প্রশান্ত বল করেননি। তবে একটা ম্যাচে ৪৩ করেছিলেন। অন্যদিকে, তিন ম্যাচে কার্তিকের রান যথাক্রমে ১৮, ১ ও ৬। সব মিলিয়ে তাঁরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
একসময় ‘ড্যাডস আর্মি’ বলে পরিচিত দলে এখন তরুণ প্রতিভার ভিড়। কিন্তু তারা যেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। কেবল তরুণ প্রতিভাদের দোষ দিয়ে কী হবে? অভিজ্ঞদের অবস্থাও তো তথৈবচ।
কেবল তরুণ প্রতিভাদের দোষ দিয়ে কী হবে? অভিজ্ঞদের অবস্থাও তো তথৈবচ। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে আনা হয়েছিল সঞ্জু স্যামসনকে। সেই সঞ্জু গত নভেম্বরে সিএসকে জার্সিতে প্রথমবার সমর্থকদের সামনে প্রকাশ্যে এসে বলেছিলেন, নিজেকে ‘চ্যাম্পিয়নের মতো’ মনে হচ্ছে। তারপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলে গিয়েছে। ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করানোর মূল কারিগরও তিনি। কিন্তু আইপিএল শুরু হতেই ৩১ বছরের এই উইকেটরক্ষকের ব্যাটে রান উধাও। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়, শিবম দুবে প্রত্যেকেই যেন নিজেদের ছায়ার সঙ্গে লড়ছেন। তার প্রভাব পড়ছে ফলাফলেও।
সবচেয়ে বড় কথা, মাঠে দাঁড়িয়ে দলকে দিশা দেখানোর মতো কেউ নেই। তাই দাক্ষিণাত্য ডার্বি এখন কার্যত একতরফা। আরসিবি’র বিরাট ২৫০ রানের লক্ষ্য যে টপকানো সম্ভব নয়, তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। চেন্নাই থমকে গেল ২০৭-এ। এর আগে সিএসকে'র বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি রান ছিল পাঞ্জাব কিংসের। ২০১৪ সালের মে মাসে কটকে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান করেছিল প্রীতি জিন্টার দল। এর ঠিক দশ বছর পর গুজরাট টাইটান্স করেছিল ৩ উইকেটে ২৩১। কিন্তু এবার সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গেল।
আরসিবি’র বিরাট ২৫০ রানের লক্ষ্য যে টপকানো সম্ভব নয়, তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। চেন্নাই থমকে গেল ২০৭-এ। এর আগে সিএসকে'র বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি রান ছিল পাঞ্জাব কিংসের।
২০২৩ আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে শেষ ৩১ ম্যাচে মাত্র ১১টি ম্যাচ জিতেছে চেন্নাই। হার ২০ ম্যাচে। চেন্নাই টিমটাকে দেখে পুরো ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে। উপায় বলতে একটাই। কবে ধোনি চোট সারিয়ে ফিরে আসেন। তবে লজ্জার হার সত্ত্বেও আইপিএলে সেরার তালিকায় আইসিবি'কে পিছনে ফেলে রেকর্ডও গড়েছে সিএসকে। আইপিএলে সর্বাধিক ২০০-র বেশি স্কোর এখন তাদের নামেই। ৩৭ বার দু'শো পেরিয়েছে চেন্নাই। তাদের পরে রয়েছে আরসিবি (৩৬), পাঞ্জাব কিংস (৩৩), মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (৩২), কেকেআর (৩০)। তবে আরসিবি’র বিরুদ্ধে হারের পর যে কোনও চেন্নাই-ভক্ত কাতর নয়নে একজনকেই খুঁজবে। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি। ব্যাটার নন, উইকেটকিপার নন। নেতা ধোনির অভাব হাড়েহাড়ে বুঝতে পারছে সিএসকে। নেটিজেনরা বলছেন, তিনিই হয়তো সঞ্জীবনী এনে দিতে পারবেন।
