৬, ৭, ৯। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে নামার আগে আইপিএলে টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। আইপিএল শুরু হতেই ৩১ বছরের এই উইকেটরক্ষকের ব্যাটে হঠাৎ করেই রান উধাও হয়ে গিয়েছিল। নতুন দল সিএসকে'র হয়ে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট কবে কথা বলবে, তা নিয়ে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছিলেন চেন্নাইপ্রেমীরা। অবশেষে তাঁদের অপেক্ষার অন্ত হল। কেবল রানই পেলেন না, বরং সেঞ্চুরি করে চেন্নাইকে ২১২ রানে পৌঁছে দিলেন ৩১ বছরের ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে রয়েছে সঞ্জুর অনবদ্য পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের শেষ তিনটি ম্যাচেই তিনি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুপার এইটের ম্যাচে ৯৭, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৮৯ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ৮৯ করেন। টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কারও পান তিনি। মূলত তিনিই গড়ে দিয়েছিলেন বিশ্বজয়ের ভিত। শনিবাসরীয় সন্ধায় সেই প্রত্যয়ই দেখা গেল তাঁর ব্যাটে। এই ম্যাচেও নামতে পারেননি ধোনি। কাফ মাসলে চোট পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। তাই বাড়তি নজর ছিল সঞ্জুর দিকে। এদিন নিরাশ করলেন না।
এদিন টসে জিতে চেন্নাইকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। কে জানত এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যাবে! অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের (১৫) ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী না হলেও আয়ুষ মাত্রেকে নিয়ে গড়ে ফেললেন বিশাল জুটি। তাতেই এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে ফিরল প্রাণ। ৬১ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করলেন তিনি। একেবারে বিশ্বকাপের মেজাজে ব্যাট করে গেলেন। বুঝিয়ে দিয়ে গেলে তিনি ফর্মে থাকলে কী হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপে মাত্র চার ম্যাচ খেলেই ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। যোগ্য হিসাবেই টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছেন কেরলমের যুবক। সেই সঞ্জুই যেন চেন্নাইয়ের 'রক্ষাকর্তা'। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থাকলেন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ১৫টি চার ৪টি ছক্কা দিয়ে। পাশাপাশি আয়ুষের নামের পাশে ৩৬ বলে ৫৯ রানের 'অবসৃত' ইনিংস। শেষে এসে ১০ বলে ২০ রান করে গেলেন শিবম দুবে। দিল্লি ক্যাপিটালসকে জিততে গেলে করতে হবে ২১৩ রান। এদিন দিল্লির হয়ে অভিষেক করেছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি। দু'ওভারে দিলেন ১৭ রান। প্রশ্ন হল, কোটার দু'ওভার বাকি থাকলেও তাঁকে আর আক্রমণে আনলেনই না দিল্লি অধিনায়ক। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
