সুযোগ আসতে দেরি হতে পারে, কিন্তু একবার এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হয়। সেটাই করে দেখালেন বাঙালি ক্রিকেটার রামকৃষ্ণ ঘোষ। সিএসকের হয়ে আইপিএল অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়লেন তিনি। দুর্দান্ত এক ক্যাচের পাশাপাশি বল হাতেও তুলে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আইপিএলে অভিষেকেই 'রকস্টার' সিএসকের এই বঙ্গতনয়।
১৯৯৭ সালের ২৮ আগস্ট নাসিকে জন্ম রামকৃষ্ণের। বাঙালি হলেও বড় হয়েছেন মহারাষ্ট্রে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন মহারাষ্ট্রের হয়ে। বাবা শেখর ঘোষ একজন ক্রিকেট কোচ। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছেই ক্রিকেটের প্রথম পাঠ নিয়েছেন তিনি। রামকৃষ্ণ বোলিং অলরাউন্ডার। নিয়ন্ত্রিত গতি, নিখুঁত লাইন-লেংথ এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় বোলিং করাই তাঁর শক্তি।
তিনি আরও বলেন, "উনি আমাকে স্কুল ছাড়িয়ে দেন। বাড়ি থেকেই ক্লাস টেনের পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমার বন্ধুরা যখন পড়াশোনা করত, আমি ক্রিকেট খেলেছি। সেখান থেকেই খেলোয়াড়ি মানসিকতা তৈরি হয়েছিল।" অপেক্ষা আর ধৈর্যের মূল্যও তিনি বুঝেছেন। তাঁর কথায়, "হয়তো বাকিদের থেকে একটু দেরিতে ক্রিকেট শুরু করেছি। কিন্তু মানিয়ে নেব ঠিকই।" বিজয় হাজারে ট্রফিতে গোয়ার বিরুদ্ধে শেষ দুই ওভারে এক রানও না দিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি নিয়ে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, "দারুণ মুহূর্ত ছিল ওটা। তবে পরিস্থিতিও অনেকটা সাহায্য করেছিল।"
নিজের সাফল্যের কথা গিয়ে তিনি সবার আগে বাবার নামই নেন রামকৃষ্ণ। তাঁর কথায়, সুযোগ দেরিতে এলেও বিশ্বাস হারাননি কখনও। বাবাই তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। আজ তিনি যা হয়েছেন, তার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বাবারই। বলেন, "আজ আমি যা, সেটা বাবার জন্যই।" রুতুরাজের নেতৃত্বে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি। রামকৃষ্ণ বলেন, "রুতুরাজ ঠান্ডা মাথার অধিনায়ক। শুরুতে চার বা ছয় খেলেও বোলারদের পাশে থাকে। চাপ দেয় না।" আর এমএস ধোনির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাঁর মন্তব্য, "আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা ধোনি, রুতুরাজ এবং কোচেদের থেকে পাওয়া শিক্ষা।"
