ফাইনাল মানেই লড়াই সেয়ানে সেয়ানে। কিন্তু আইপিএল ফাইনালের ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। সূচির কারণে দুই দলের প্রস্তুতিতে দেখা গিয়েছে বিস্তর ফারাক। একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা। একই সঙ্গে প্রশ্ন, আইপিএল ফাইনাল বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে কারা চ্যাম্পিয়ন হবে?
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে গুজরাট টাইটান্স। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন জটিলতা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকার কারণে দলের যাত্রা ব্যাহত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে চণ্ডীগড় থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে আহমেদাবাদে ফেরার কথা ছিল গুজরাট শিবিরের। কিন্তু পাঞ্জাব ও রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিমান ছাড়তে পারেনি।
শনিবার দুপুরে চণ্ডীগড় থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে আহমেদাবাদে ফেরার কথা ছিল গুজরাট শিবিরের। কিন্তু পাঞ্জাব ও রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিমান ছাড়তে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত শনিবার রাত ১০.৩০ মিনিট নাগাদ শুভমান গিলরা আহমেদাবাদে পৌঁছন। সেখান থেকে আবার প্রায় আধঘণ্টার সড়কপথ অতিক্রম করে তাঁরা যান গান্ধীনগরের এক হোটেলে। অর্থাৎ, রাজস্থান ম্যাচের পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গুজরাট টাইটান্সকে আহমেদাবাদ পৌঁছতে হয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাননি ক্রিকেটাররা। প্রস্তুতিতেও ঘাটতি পড়েছে। হিসাবমতো গুজরাট টাইটান্স ফাইনালের আগে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের বিশ্রাম নিয়ে মাঠে নামতে চলেছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে আরসিবি। রজত পাতিদারের নেতৃত্বাধীন দল প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে আগেভাগেই ফাইনালে ওঠায় কোহলিরা পেয়েছেন 'বিরাট' বিশ্রামের সুযোগ। প্রায় চারদিন সময় হাতে থাকায় ক্রিকেটাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ হয়ে মাঠে নামবেন। যা ফাইনালের মতো চাপে ভরা ম্যাচে বড় ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি এই 'অতিরিক্ত' সময়কে কাজে লাগিয়ে দলের ম্যানেজমেন্টও প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করে কৌশল সাজানোর যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। তাই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই বাড়তি প্রস্তুতির সময়কেই অনেকেই আরসিবি’র বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন।
'অতিরিক্ত' সময়কে কাজে লাগিয়ে দলের ম্যানেজমেন্টও প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করে কৌশল সাজানোর যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। তাই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই বাড়তি প্রস্তুতির সময়কেই অনেকেই আরসিবি’র বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন।
তবে গুজরাটের জন্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। রাজস্থানের বিরুদ্ধে অনবদ্য জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি আইপিএলে অন্যতম ধারাবাহিক দল গুজরাট। যা ফাইনালে তাদের মানসিকভাবে ভালো জায়গায় রাখবে। এর সঙ্গে রয়েছে আহমেদাবাদের ঘরের মাঠের সমর্থনও। কিন্তু প্রশ্ন হল, আইপিএল ফাইনাল বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে কোন দল ট্রফি পাবে?
নিয়ম অনুযায়ী, খেলা পরিত্যক্ত হলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান অধিকারী দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু চ্যাম্পিয়ন হবে। কারণ এবারের আইপিএলে লিগ তালিকায় মগডালে শেষ করেছে আরসিবি। যদিও ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রবিবার খেলা না হলে সোমবার ম্যাচ হবে। অতিরিক্ত দিনেও খেলা ভেস্তে গেলে চ্যাম্পিয়ন হবেন বিরাট কোহলিরা। যদি আবহবিদরা জানিয়েছেন, আহমেদাবাদের আকাশ পরিষ্কার থাকবে। মেঘের পরিমাণ থাকতে পারে ১৫ শতাংশ। বৃষ্টির সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরু চ্যাম্পিয়ন হলে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মার পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসাবে টানা দু'বছর আইপিএল জেতার কৃতিত্ব অর্জন করবেন রজত পাতিদার।
