ছ'দিন পরেই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে আইপিএলের। তার আগে বিস্ফোরক প্রাক্তন ক্রিকেটার ইরফান পাঠান। গত মরশুমে ফাইনালে উঠলেও, ১৮ বছরে মাত্র তিনবার প্লে-অফে জায়গা করে নিতে পেরেছে পাঞ্জাব কিংস। দীর্ঘদিনের এই ব্যর্থতার নেপথ্যে মালিকানার দ্বন্দ্বকে দায়ী করলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে পাঠান বলেন, "২০০৮ সালে সেমিফাইনালে উঠেছিলাম। কিন্তু পরের বছর থেকেই সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। সব কিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে গেল।" ঘটনাচক্রে প্রথম মরশুমের পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী হতে থাকে। "এর পরের বছর থেকেই সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই বছর আইপিএল দক্ষিণ আফ্রিকায় হয়েছিল। আমরা ভালো কিছু করতে পারিনি। তৃতীয় বছরে নেতৃত্ব বদলে যায়।" মন্তব্য ইরফানের।
মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গিই এর কারণ বলে মনে করেন পাঠান। তাঁর কথায়, "শুরুর দিকে মালিকরা ভালোই ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বললে সব ঠিকই লাগত। কিন্তু ভিতরে সমন্বয়ের অভাব ছিল। যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় প্রভাব ফেলত। ওঁদের সবার ক্রিকেট সম্পর্কে সমান ধারণা ছিল না। তবুও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নিতেন। এক মালিক বলছেন, 'রেজাল্ট চাই, তাই এই দল খেলাও'। আরেকজন বলছেন, 'এই কম্বিনেশন খেলাতে হবে'। মাঠের রেজাল্ট খারাপ হলে এই বিভেদ আরও বেড়ে যায়। প্রথমদিকে এটাই বড় সমস্যা ছিল।"
দলের মালিকানায় প্রীতি জিন্টা মুখ্য হলেও, তিনি একমাত্র মালিক নন। প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহিত বুরম্যান (৪৮%), নেস ওয়াদিয়া (২৩%) এবং করণ পল (৬%)-রাও বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি। "এখনকার পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় অনেক কিছু বদলেছে। স্থায়িত্ব আনার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এতগুলো বছরে ১২ জন অধিনায়ক বদল হয়েছে। এর অর্থ নেতৃত্বে স্থায়িত্ব ছিল না। এতে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। কয়েক বছর আগেও পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে এটা বড় সমস্যা ছিল।" পাঞ্জাবের হয়ে তিন দফায় খেলেছেন ইরফান। ৪২ ম্যাচে ৪৭ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৬০৩ রানও করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে পাঞ্জাব।
