একসময় তিনি পরিচিত ছিলেন বামমনস্ক হিসাবে। বামেদের হয়ে অতীতে ভোটপ্রচারেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। সেই চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার সদ্য দেখা গিয়েছে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায়। এবার পানিহাটির সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মায়ের সমর্থনে নিজের 'পুরনো শিবির' বামেদেরই 'তোপ' দাগলেন নারায়ণ। তিনি বলছেন, সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তর উচিত পানিহাটি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া। ভোট কাটাকুটির অঙ্কে কোনওভাবেই যেন অভয়ার মা হেরে না যান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ। এমনকী ওই সময় বেশ কিছুদিন জেলেও থাকতে হয়েছে তাঁকে। নির্বাচনী ময়দানে নামার আগেও অভয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কলতান। কিন্তু বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণের পরই তৃণমূলের পাশাপাশি কলতানের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে সিপিএম শূন্য। ওদের ভোট দিয়ে লাভ হবে না। বরং ভোট কাটাকুটির অঙ্কে সুবিধা তৃণমূলের। আন্দোলনের আবেগকে ভোটের মঞ্চে তোলা হলে সেটাও মেনে নেওয়া হবে না।
অভয়ার মায়ের সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলছেন, "আমি কলতানকে বলব তোমার প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিও। কলতান আমার খুব ঘনিষ্ঠ। ওকে বলব, অভয়ার মা-কে পানিহাটি থেকে জেতাতেই হবে। এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ভোট কাটাকুটিতে তৃণমূল যাতে সুবিধা না পায়, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।" শুধু কলতান নয়, তাঁর বাবার কাছেও একই নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, "ছেলেকে বোঝান, ও যাতে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়।" তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষেরও প্রার্থী প্রত্যাহার করা উচিত বলে দাবি চিকিৎসকের।
পদ্মপ্রার্থী হতে চাওয়ায় দিকে দিকে সমালোচিত হচ্ছে অভয়ার মা-বাবাকে। বিশেষত বাম মহল থেকে সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হচ্ছে তাঁদের। পালটা বামপন্থীদের তোপ দেগেছেন তাঁরাও। অভয়ার মা-বাবার দাবি, মেয়ের বিচার বিলম্বিত হওয়ার নেপথ্যে বামেরাও কারণ। এমনকী এই চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছেন তাঁরা। যদিও তাতে ক্ষুব্ধ নন নারায়ণ। তিনি বলছেন, "অভয়ার মা-বাবা যা সিদ্ধান্ত নেবেন আমি তাঁর পাশে আছি। এখন রাজ্যে একটাই স্বর, পরিবর্তন চাই। সেজন্য অভয়ার মা-বাবা যদি ভোটে দাঁড়ান, তাহলে তাঁকে জেতানোর দায়িত্ব পানিহাটিবাসীর।" কলতানের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, প্রার্থী হতেই হবে, এমন তো কথা নেই। মানুষের কাজ প্রার্থী না হয়েও করা যায়।
