১১ ক্রিকেটভক্তের মৃত্যুর স্মৃতি বুকে নিয়ে শুরু হচ্ছে আইপিএল। শনিবার মেগা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। ১১টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে প্রয়াত ভক্তদের স্মৃতিতে। কিন্তু তার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা নিয়ে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রত্যেক বিধায়কের জন্য উদ্বোধনী ম্যাচের দু'টি করে টিকিট বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটা স্ট্যান্ড বরাদ্দ হয়েছে বিধায়কদের জন্য।
গত বছর আরসিবির বিজয় মিছিলে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় প্রশাসনের কতখানি দায় ছিল, সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এবছর আইপিএল শুরুর আগেই ফের বিতর্কে জড়াল কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। দিনকয়েক আগেই এক কংগ্রেস বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, "আমরা তো ভিআইপি। আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে পারব না। আমাদের অন্তত কিছুটা সম্মান দেওয়া উচিত।" এই মন্তব্যের পরেই আইপিএলের টিকিট চেয়ে সরব হন কর্নাটকের স্পিকার স্বয়ং। বিধায়কপিছু চারটি করে টিকিট দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।
এহেন পরিস্থিতিতে কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তথা জাতীয় দলের প্রাক্তন পেসার ভেঙ্কটেশ প্রসাদ সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে। ওই সাক্ষাতের পরে দুপক্ষের 'সমঝোতা' হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত বিধায়করা একটি করে টিকিট পেতেন। কিন্তু এবার থেকে তাঁরা পাবেন দু'টি টিকিট। আমজনতার ভিড়ে যেন ভিআইপিদের অস্বস্তি না হয়, সেকারণে একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডও বরাদ্দ করা হয়েছে বিধায়কদের জন্য।
কংগ্রেস বিধায়কদের এহেন আচরণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। প্রশ্ন রয়েছে আমজনতার মনেও। আরসিবির মতো জনপ্রিয় দলের ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। বিরাট কোহলিদের দেখতে প্রত্যেক ম্যাচে ভিড় জমান ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেখানে জনপ্রতিনিধিদের এত টিকিট দেওয়া, বিশেষ স্ট্যান্ডের ছাড় দেওয়া কেন? যেখানে গতবছর আমজনতা পদপিষ্ট হয়েছিলেন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের কেন আলাদা ব্যবস্থা থাকবে? প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
