পাকিস্তানে নকভি বনাম নকভি। সোজা কথায়, একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। অন্যদিকে পাকিস্তান সুপার লিগের ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মালিক আলি নকভি। কেন পাক লিগ (PSL 2026) দর্শকশূন্য, তা নিয়ে দু'পক্ষের মতামতে আকাশ-পাতাল তফাৎ। বলা যায়, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাক সরকারের প্রশংসা করতে গিয়ে মহসিন নকভির 'বিরোধিতা' করে বসলেন আলি নকভি।
ব্যাপারটা কীরকম? যুদ্ধের কারণে পাকিস্তান সুপার লিগে দর্শক প্রবেশ বন্ধ। মার্চের শুরুতে আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে তেলের সংকট দেখা দেখা। সেসব মাথায় রেখে কিছু সিদ্ধান্ত নেয় পাক বোর্ড। যেমন দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচ হবে। যেখানে আগে ছ'টি স্টেডিয়ামে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ম্যাচ হচ্ছে মাত্র দু'টি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি দু'সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি হয়েছে। পাক সরকারের দাবি, তাদের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থেমেছে। সেই কৃতিত্ব নিতে নেমে পড়েছেন অনেকে। আর তাতেই যত বিতর্ক। কেন পাক লিগে দর্শক ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না? বা সব স্টেডিয়ামে ম্যাচ হচ্ছে না? পিএসএলের দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মালিক আলি নকভি সোশাল মিডিয়ায় যা লেখেন, তার মূল বক্তব্য,
- যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
- জাতীয় সুরক্ষার জন্য মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
- দেশজুড়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা যাতে কম না হয়, তাই ক্রিকেটকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এটা তো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য নয়। বকলমে পাক সরকারের মন্তব্য নয়। কারণ নকভি বোর্ড ও সরকার, দু'জায়গাতেই আছেন। দর্শক অনুপস্থিতি বা স্টেডিয়াম কমানো নিয়ে পাক বোর্ডের যুক্তি ছিল,
- জ্বালানি তেলের সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পুরো দেশের চলাচলে অনেক নিয়ন্ত্রণ এনেছেন।
- এই পরিস্থিতিতে ৩০ হাজার মানুষকে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা যাবে না।
- ব্যস্ত সূচি ও ব্রডকাস্টের জন্য অন্য সময়ে পিএসএল করা যাবে না।
তাহলে সত্যি কোনটা? জ্বালানি সংকটে যাতায়াত ব্যবস্থা নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থা? আলি নকভি যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিতে গিয়ে মহসিন নকভিকেই বিপাকে ফেলেছেন।
