একটা সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে 'অচল' বলা হত কেএল রাহুলকে (KL Rahul)। রান করলেও স্ট্রাইক রেট নিয়ে বারবার সমালোচিত হতে হয়েছে তাঁকে। ২০১৮ সাল থেকে (২০২৩ বাদ দিয়ে) প্রায় প্রতি মরশুমেই ৫০০-র বেশি রান করেছেন তিনি। তবু সমালোচকদের নিশানায় ছিলেন ভারতীয় তারকা ব্যাটার। তবে এবারের আইপিএলে দেখা যাচ্ছে এক নতুন রাহুলকে। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে তাঁর 'সাইক্লোনিক' ১৫২ রানের কথা এখনও মুখে মুখে ফেরে। এবার রাজস্থানের বিরুদ্ধেও ঝড় উঠল তাঁর ব্যাটে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে নয় ম্যাচে ইতিমধ্যেই ৪৩৩ রান করে কমলা টুপি তাঁর মাথায়। করেছেন একটি সেঞ্চুরি, তিনটি হাফসেঞ্চুরি। জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৪০ বলে ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন রাহুল। জয়ের পর পয়েন্ট টেবিলে ছয়ে উঠেছে দিল্লি। সবচেয়ে চোখে পড়ার বিষয়, এবারের আইপিএলে রাহুলের স্ট্রাইক রেট ১৮৫.৮৪। যা তাঁর আইপিএল কেরিয়ারের সেরা। আধুনিক টি-টোয়েন্টির দাবি মেনে তিনি যেভাবে নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন এনেছেন, তা স্পষ্ট।
২০১৮ সাল থেকে কেএল রাহুলের রান ও স্ট্রাইক রেট
২০১৮: ৬৫৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১৫৮.৪১
২০১৯: ৫৯৩ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৩৮
২০২০: ৬৭০ রান, স্ট্রাইক রেট ১২৯.৩৪
২০২১: ৬২৬ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৮.৮০
২০২২: ৬১৬ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৩৮
২০২৩: ২৭৪ রান, স্ট্রাইক রেট ১১৩.২২
২০২৪: ৫২০ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৬.১৩
২০২৫: ৫৩৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১৪৯.৭২
২০২৬*: ৪৩৩ রান, স্ট্রাইক রেট ১৮৫.৮৪
ম্যাচের পর রাহুল বলেন, "আমার স্ট্রাইক রেট নিয়ে অনেক বছর ধরেই আলোচনা হয়েছে। এটা নিয়ে আমি পরিশ্রম করেছি। দলের জন্য যা প্রয়োজন, সেটা করতে পারছি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যা চায়, সেটাও করতে পারছি। এতে আমি খুশি।" রাজস্থানের বিরুদ্ধে ২২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাহুলের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ঝড় তোলেন পাথুম নিশাঙ্কা। ৫৭ বলে ১১০ রান যোগ করেন তাঁরা।
পাওয়ার প্লে-তে নিশাঙ্কাই বেশি বল খেললেও তাতে অসন্তুষ্ট নন রাহুল। তিনি বলেন, "আমি অবশ্যই পাওয়ার প্লে-তে আরও কিছু বল খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাথুম যেভাবে ব্যাট করছিল,তাতে অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ওর ব্যাটিং উপভোগ করা ছাড়া আমার বিশেষ কিছু করার ছিল না। পাওয়ার প্লে-তে আমরা এমন মানসিকতাই চাই।" এই ম্যাচে রাহুলের লড়াই আলাদা করে বলতেই হয়। ২০ ওভার উইকেটকিপিং করার পর, ১৫.২ ওভার ব্যাটিং করেন তিনি। দিল্লির পরবর্তী ম্যাচ ৫ মে, নিজেদের মাঠে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে রাহুলই হতে পারেন দিল্লির সবচেয়ে বড় ভরসা।
