দুটো ভালো খবর রইল কেকেআরের জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের আসা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেটা প্রায় কেটে গিয়েছে। সুনীল নারিন চলে আসছেন ২৩ মার্চ রভম্যান পাওয়েল আর আন্দ্রে রাসেল তার পরের দিন। অর্থাৎ প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের পাওয়া নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, সেটা প্রায় কেটে গিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মাথিশা পাথিরানা ফিট হওয়ার পথে। খুব সম্ভবত দ্বিতীয় ম্যাচ অর্থাৎ ইডেনে নিজেদের প্রথম ম্যাচ (২ এপ্রিল, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ) থেকেই পাথিরানাকে পেয়ে যাবে কেকেআর। শ্রীলঙ্কান পেসারের ফিটনেস টেস্ট হয়েছে। নেটে বোলিংও করে দিচ্ছেন তিনি। যার ফলে পেস অ্যাটাক নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমল কেকেআর শিবিরে। তবে হর্ষিত রানাকে পাওয়া যাবে কি না, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও কেকেআর এখনই হর্ষিতের পরিবর্ত হিসাবে কারও নাম হয়তো সরকারিভাবে ঘোষণা করবে না। যদিও সিমারজিৎ সিং, নভদীপ সিংয়ের মতো জনা কয়েক পরিচিত পেসারকে ট্রায়ালে ডাকা হয়েছে। যা শোনা গেল, আরও কিছুদিন পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রথম ম্যাচের আগে দিন দশেক সময় রয়েছে। তার আগে কম্বিনেশন নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে রাখতে চাইছে কেকেআর। অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে যেমন প্র্যাকটিসে দীর্ঘক্ষণ উইকেটকিপিং করতে দেখা গেল। ফিন অ্যালেন আর টিম শেফার্ট উইকেটকিপিং করেন। যদি কম্বিনেশনের জন্য যদি ভারতীয় উইকেটকিপার প্রয়োজন হয়, তাই রঘুবংশীকে তৈরি রাখা হচ্ছে। মুম্বইকরের অবশ্য এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেটকিপিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রথম ম্যাচের আগে পূর্ণশক্তির টিম নিয়ে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছে না কেকেআর। অ্যালেন আর শেফার্ট বৃহস্পতিবার রাতেই শহরে ঢুকে পড়েছেন। বরুণ চক্রবর্তীও তাই। ক্যামেরন গ্রিন চলে আসছেন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের আসা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য বিশ্বকাপের পরও বেশ কিছু দিন কলকাতায় থেকে যেতে হয়েছিল ড্যারেন স্যামিদের। তবে চব্বিশ ঘণ্টা আগেও সুনীল নারিন, রভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেলদের আসা নিয়ে যেরকম জটিলতা ছিল, সেটা অনেকটা কেটে গিয়েছে। নাইট শিবিরে খবর নিয়ে জানা গেল, নারিন চলে আসছেন ২৩ মার্চ। পরের দিন শহরে পা রাখবেন পাওয়েল আর রাসেল। যাঁকে এবার আর ক্রিকেটার নন, দেখা যাবে অন্য ভূমিকায়।
রাসেলকে এবার ‘পাওয়ার’ কোচ করেছে কেকেআর। পাওয়ার হিটিং সংক্রান্ত বিষয় রিঙ্কু সিং, রামনদীপ সিংদের নিয়ে কাজ করবেন রাসেল। সঙ্গে আরও দায়িত্ব দেওয়া জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। রাসেল বরাবরই ফিটনেস সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে অসম্ভব খুঁতখুঁতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে পড়ে থাকেন। কেকেআর ম্যানেজমেন্ট ঠিক করেছে, পাওয়ার আর স্ট্রেংথ কন্ডিশনিংয়ের ব্যাপারটাও দেখবেন রাসেল। অর্থাৎ লম্বা টুর্নামেন্টে কীভাবে নিজেকে ফিট রাখতে হবে, ক্রিকেটারদের সেই মন্ত্রও দেবেন রাসেল।
এতক্ষণ তো একজনের কথা বলাই হয়নি। দিশান্ত ইয়াগনিক। কেকেআরের ফিল্ডিং কোচ। যিনি প্রত্যেক দিনই ট্রেনিং সেশনে কিছু না কিছু অভিনব জিনিস করছেন। শোনা গেল, ফিল্ডিং প্র্যাকটিসের জন্য বিশেষ একটা ব্যাট নিয়ে এসেছেন। যা তৈরি করেছেন নিজে। এদিন যেমন নতুন একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা গেল। দু'টো গ্রুপ করে ফিল্ডিং ড্রিল করাচ্ছিলেন কেকেআরের ফিল্ডিং কোচ। তিনটে নিয়ম করে দিয়েছিলেন:
- প্রত্যেকটা সফল থ্রো’য়ের পর বিপক্ষ গ্রুপের একজন ক্রিকেটারকে জার্সি খুলতে হবে।
- যে টিম বিপক্ষ টিমের সবার জার্সি খোলাতে পারবে, তারা জিতবে।
- যারা হারবে, ফিল্ডিং কোচের সঙ্গে তাদের দশটা করে পুশ আপ দিতে হবে।
অজিঙ্ক রাহানে, রামনদীপদের দেখা গেল নতুন ফিল্ডিং কোচের নতুন ফিল্ডিং ড্রিল সবাই বেশ উপভোগই করছেন।
