বয়স যে কেবলই সংখ্যা মাত্র, তা বোঝা যায় মহম্মদ শামিকে দেখে। জাতীয় দলে ব্রাত্য, বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে ব্রাত্য বঙ্গ পেসারকে ১০ কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল। এবার তাঁর ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। রোববার দুপুরে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ছিল শামির কাছে বিশেষ। কারণ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাঁর পুরনো দল। সেই দলের বিরুদ্ধে আগুন ঝরালেন তিনি। বিশেষ এই ম্যাচে তাঁর 'স্পেশাল' স্পেলই দু'দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিল।
দিল্লি ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামার আগে জাতীয় নির্বাচকদের কাঠগড়ায় তুলেছিলেন 'ব্রাত্য' পেসার। ১২ বছর ধরে ভারতীয় বোলিংয়ের মূল ভরসা ঘরোয়া ক্রিকেটে একইভাবে ভরসা জুগিয়ে চলেছেন। প্রতি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই মরশুমে বাংলা যে রনজির সেমিফাইনাল খেলল, সেটার অন্যতম কারিগর মহম্মদ শামি। তা সত্ত্বেও ভারতীয় দলে ডাক পাননি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশ্ন, কেন তাঁকে টি-টোয়েন্টি বোলার হিসাবে ধরা হবে না? নাহ, সেই কেনর উত্তর হয়তো জাতীয় নির্বাচকদের কাছে নেই। এত উপেক্ষা সত্ত্বেও পারফরম্যান্সই যেন তাঁর একমাত্র তূণীর। যার প্রয়োগে প্রতিপক্ষ ঝাঁজরা হয়ে যায়।
পুরনো দলের বিরুদ্ধে যেভাবে বোলিং করলেন, তাতে কে বলবে তাঁর বয়স ৩৫ পেরিয়েছে! প্রথম ওভারেই তুলে নিলেন অভিষেক শর্মাকে। এরপর শামির বিষধর স্লোয়ারে ঠকলেন ট্রাভিস হেড। মনে রাখতে হবে, অভিষেক এবং হেড টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন দুই ব্যাটার, যাঁদের ব্যাট একবার চলতে শুরু করলে থামানো প্রায় দুঃসাধ্য পর্যায়ে চলে যায়। কিন্তু সানরাইজার্স ব্যাটিংয়ের সেই 'মুড়ো' ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন শামি। প্রথম দু'ওভারে দিলেন মাত্র ৩ রান। সঙ্গে দু'উইকেট। পরের দু'ওভারে দিলেন মাত্র ৬ রান। সব মিলিয়ে চার ওভারে ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট। অর্থাৎ ওভারপিছু মাত্র ২.২৫। টি-টোয়েন্টিতে এত কৃপণ বোলিং দেখা হালফিলে প্রায় দুঃসাধ্য। আর সেই কঠিন কাজটাই সম্ভব করে দেখিয়েছেন তিনি।
শামির ওভার শেষ হতেই লখনউ বোলাররা বেদম মার খেলেন। শামি যখন চার ওভারের স্পেল শেষ করলেন, তখন হায়দরাবাদের রান ৮ ওভারে ২৯/৪। সেখান থেকে তারা ১৫৬ করে গেল। হেনরিখ ক্লাসেন (৬২) এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি (৫৬) ১১৬ রানের জুটি গড়লেন। জবাবে ১৯.৫ ওভারে জয়ের রান তুলে নেয় লখনউ সুপার জায়ান্টস। এদিন তিন নম্বরে ব্যাট করে রান পেয়েছেন অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেছেন ঋষভ পন্থ। ৫০ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৯ চার হাঁকালেও তাঁর ইনিংসে কোনও ছক্কা ছিল না। কিন্তু যেভাবে ম্যাচ শেষ করে এলেন, তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। ২৭ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন আইডেন মার্করাম। তবে সবার মুখে শামির নাম। ভয়ংকর বোলিংয়ে দলকে জিতিয়ে জাতীয় নির্বাচকদের বার্তা দিয়ে রাখলেন তিনি। এরপরেও কি উপেক্ষিত থাকতে হবে তাঁকে?
