রনজি ট্রফিতে এখন পেসারদের দাপট। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই সবুজ উইকেট তৈরি হয়। গত দু'বছরে রনজিতে পেসাররাই সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। যার মধ্যে এবার সেরা বোলার জম্মু-কাশ্মীর পেসার আকিব নবি। তাঁর উইকেট সংখ্যা ৬০। কিন্তু পেসারদের দাপটের মাঝেও সমান উজ্জ্বল ময়ঙ্ক মিশ্র। উত্তরাখণ্ডের বাঁ-হাতি স্পিনারের রনজিতে এবার উইকেট সংখ্যা ৫৯। সেটাও মাত্র আট ম্যাচ খেলে। সব ম্যাচ খেলেননি তিনি। আর মায়াঙ্কের এমন সাফল্যের নেপথ্যে বাংলার এক কোচ।
তিনি শিবসাগর সিং (Shibsagar Singh)।
ময়দানের ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাবে দীর্ঘদিন কোচিং করাচ্ছেন প্রাক্তন বঙ্গ স্পিনার শিবসাগর। গত বছর নিজের বোলিং নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন ময়ঙ্ক। তাঁর টেকনিক সংক্রান্ত কিছু সমস্যা হচ্ছিল। তখন উত্তরাখণ্ড কোচ মণীশ ঝা তাঁকে পরামর্শ দেন শিবসাগরের কাছে যাওয়ার জন্য। মণীশ নিজেও বাংলার ছেলে। শিবসাগরের বন্ধু।
গতবছর ঘরোয়া মরশুম শুরুর আগে ময়ঙ্কের সঙ্গে বেশ কিছুদিন কাজ করেছিলেন শিবসাগর। বাংলার প্রাক্তন স্পিনার কয়েকটা টেকনিক্যাল ব্যাপার বলে দিয়েছিলেন তাঁকে। যার পর ময়ঙ্কের বোলিং আরও বেশি ক্ষুরধার হয়ে যায়। শিবসাগরের পরামর্শ কতটা উপকৃত হয়েছিলেন, সেটা ময়ঙ্কের কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছিল। ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাবে বেশ কিছু দিন ধরেই স্পিনারদের ক্লিনিক শুরু করেছেন শিবসাগর। বাংলার স্পিনাররা তো বটেই, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্পিনাররা আসছেন ওই ক্লিনিকে। ময়ঙ্কও যেমন দু'দিন সেই ক্লিনিকে কাটিয়ে গেলেন। বলছিলেন, "শিবসাগর স্যরের পরামর্শ খুব কাজে লেগেছে। গতবার বোলিং নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। তাই স্যরের কাছে আসি। তারপর কয়েকটা টেকনিক্যাল পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেটাই আমার বোলিংয়ের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। কিছুদিন পর আমাদের ওখানে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। তার আগে কয়েকটা দিন স্যরের কাছে ট্রেনিং করে গেলাম। ঘরোয়া ক্রিকেট প্রচুর অভিজ্ঞতা ওঁর। কার কী সমস্যা হচ্ছে, সেটা দেখে বুঝে যান। দ্রুত ভুলগুলো শুধরে দেন।"
উত্তরাখণ্ডের এবার রনজি সেমিফাইনাল খেলার পিছনে ময়ঙ্কের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। দেশের সব জায়গায় যেখানে সবুজ পিচ হচ্ছে, সেখানে এই সাফল্যের রহস্য কী? তরুণ স্পিনারের কথায়, "আমি পিচ নিয়ে ভাবি না। সবুজ পিচ হলেও বোলিং তো করতে হবে। নাকি পিচে ঘাস রয়েছে বলে বোলিং করব না। পিচ যা-ই হোক না কেন, আমরা একটাই লক্ষ্য থাকে উইকেট নেওয়া। টিমকে জেতানো।"
