ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে বসে ই-সিগারেটে সুখটান দিয়েও বড় শাস্তি এড়িয়েছেন রিয়ান পরাগ। আপাতত শুধু জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিতর্ক থামেনি। রাজস্থানের অধিনায়কের বিরুদ্ধে কড়া তদন্তের দাবি তুলেছে ধূমপানবিরোধী সংগঠন 'মাদার্স এগেইনস্ট ভেপিং'। তাদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে রিয়ান এই কাজ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
এই অপরাধের কোনও শাস্তিই নাকি নেই বিসিসিআইয়ের নিয়মাবলিতে! রিয়ান পরাগের ই-সিগারেট কাণ্ডে প্রকাশ্যে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেহেতু কোনও শাস্তির নিয়ম নেই, তাই রিয়ান কার্যত পার পেয়ে গিয়েছেন। মাঠে বসে ই-সিগারেট টানার অপরাধে ম্যাচ ফি’র মাত্র ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়কের। শাস্তির নিরিখে যা অতি সামান্য।
এই সংগঠন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় আইনে ই-সিগারেট রাখা বা ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়ম ভাঙলে ছ’মাস পর্যন্ত জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা এক লক্ষ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, ভারতে আইন সবার জন্য সমান। কেউ বিখ্যাত হলেই নিয়ম ভাঙার জন্য ছাড় পেতে পারেন না। একজন পরিচিত ক্রিকেটার প্রকাশ্যে এমন বার্তা দিলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ২০১৯ সালের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। সেখানে তিনি বলেছিলেন, কিছু মানুষের কাছে ই-সিগারেট রাখা যেন ফ্যাশনের বিষয় হয়ে উঠছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, পরাগ ভুলবশত এমন করেছেন, না কি কোনও সংস্থার প্রচারের উদ্দেশে করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। কারণ বহু বহুজাতিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে ই-সিগারেটের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ। তাদের মতে, যদি পরাগের কোনও হীন উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তাঁর প্রকাশ্যে এসে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কারণ তাঁর মতো ক্রিকেটারদের আদর্শ মেনে চলে বহু কিশোর-তরুণ। এই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তাদের উপরও।
