প্রায় একটা বছর কেটে গিয়েছে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর। কিন্তু সেই সোনালি এই মুহূর্তটা এখনও খুব স্পষ্ট বিরাট কোহলির কাছে। শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটাই নয়, আরসিবি তারকার স্মৃতিতে অমলিন সেই ম্যাচের অন্য মুহূর্তগুলোও। এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিরাট শোনালেন সে কথাই।
দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর আইপিএল জিতেছে আরসিবি, জিতেছেন বিরাট। ফলে এই লিগে দেড় যুগের বেশি সময় কাটিয়ে ফেলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটাই সবচেয়ে দামি তাঁর কাছে। সঙ্গে ফাইনালের আরও কিছু মুহূর্তও অমূল্য বিরাটের মননে। যেমন এবি ডি'ভিলিয়ার্সের সঙ্গে উদযাপন। ভারতীয় ক্রিকেট নক্ষত্র বলছিলেন, "আইপিএল জেতাটাই সেরা মুহূর্ত, সেটা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তবে আরও মুহূর্ত আছে যেগুলো ভোলা সম্ভব নয়। যেমন, এক সময় আমি বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করছিলাম আর এবিডি ঠিক তার উলটো দিকে ছিল। প্রতিপক্ষের একটা উইকেট পড়ার পর দু'জন একই আবেগ দিয়ে উদযাপন করছিলাম। আমরা যে একসঙ্গে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে লড়েছি, জিতেছি, ব্যর্থ হয়েছি, দু'বার ফাইনালে গিয়ে ট্রফি জিততে পারিনি - এই আবেগ তারই প্রমাণ।" গতবছর পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে আরসিবি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মাঠে একসঙ্গে উদযাপনও করেন বিরাট-এবিডি।
দেড় যুগের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর জেতার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছিলেন বিরাট। ফলে ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। বিরাট শোনালেন, "১৮ বছর ধরে চেষ্টার ফল না পেলে নিজের উপরেই সন্দেহ হয়। যে সেটা আমার ভাগ্যে আদৌ আছে কি না। আমি তো ভুলতেই বসেছিলাম ট্রফি জয়ের মুহূর্তটা কেমন হবে। ফলে সেদিন যখন আমাদের জয় নিশ্চিত হল, আমি কেমন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না যেন। কারণ তখনও তিন বল বাকি ছিল।" ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আঠারো বছর কাটিয়ে, রেকর্ড আর ট্রফির পাহাড় গড়েও প্রতিদিন নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য থাকে বিরাটের। সাফল্যের জন্য তাঁর প্রেসক্রিপশন, "পেশাগত জীবন হোক বা ব্যক্তিগত, প্রতিদিন নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিতে হবে। আগের দিনের থেকে নিজেকে আরও ভালো করতে হবে। তাহলেই সাফল্য মিলবে।"
গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও আইপিএলে বেশ ভালো জায়গায় রয়েছে। বিরাট নিজে ৮ ম্যাচে ৩৫১ রান করে রয়েছেন কমলা টুপির দৌড়ে। দেবদত্ত পাড়িক্কল, রজত পাতিদার, টিম ডেভিডরা ঝড় তুলছেন ব্যাটে। শেষ ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে আরসিবি-কে জিতিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার-জশ হ্যাজেলউডরা। ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পাওয়া আরসিবি বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে গুজরাট টাইটান্সের। সপ্তাহখানেক আগেই ঘরের মাঠে হারিয়েছে তারা। এবার আহমেদাবাদে শুভমান গিলদের বিরুদ্ধে জিতলে টেবলের শীর্ষে উঠে আসার সুযোগ রয়েছে বিরাটদের। সঙ্গে দল পৌঁছে যাবে প্লে-অফের আরও কাছে। সেটাই আপাতত পাখির চোখ আরসিবির। অস্বস্তি শুধু ফিল সল্টের চোট। ফিট না হওয়ায় দলের সঙ্গে আহমেদাবাদ আসেননি ইংল্যান্ড ওপেনার। ফলে টাইটান্সের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম একাদশে বদলের সম্ভাবনা কম।
শুভমানরা আবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং আরসিবি-র কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়েছে চেন্নাইয়ে সিএসকে-র বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়ে। শুভমান, জস বাটলাররা ফর্মে আছেন। সঙ্গে ওপেনার সাই সুদর্শনের রানে ফেরা বড় স্বস্তি টাইটান্সের। ঘরের মাঠে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং অশোক শর্মাকে আরসিবি-র বিরুদ্ধে ফেরাতে পারে তারা।
আজ আইপিএলে
গুজরাত টাইটান্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু
সন্ধ্যা ৭.৩০, আহমেদাবাদ
স্টার স্পোর্টস
