লক্ষ্মীবারের ইডেনে হেলিকপ্টার শটে মারা ছক্কায় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন মুকুল চৌধুরী। পূর্বজ 'মাহিভাই' যে তাঁরও পথ প্রদর্শক, জানাতে ভোলেননি এলএসজির এই নতুন তারা। অবশ্য ধোনির সঙ্গে মুকুলের মিলও অনেক। দু'জনেই যাত্রা শুরু করেছেন ছোট শহর থেকে, যার ক্রিকেট কৌলিন্য নেই বললেই চলে। আবার দু'জনেই উইকেটকিপার-ব্যাটার হয়েছেন স্কুলের কোচের কথায়। ধোনি ফুটবলের গোলকিপার থেকে ক্রিকেটে আসেন। মুকুল আবার করতেন মিডিয়াম পেস। সঙ্গে ভালো ফিল্ডারও ছিলেন তাই স্কুল টিমে উইকেটকিপারের অভাব মেটাতে ভরসা করা হয়েছিল তাঁর উপরে।
আরও একটা বিষয়ে মিল রয়েছে মাহি আর মুকুলের। কেরিয়ারের শুরুর দিকে পূর্বাঞ্চলের হয়ে দলীপ ট্রফিতে সুযোগ পাওয়ার খবর সময়ে পৌঁছায়নি ধোনির কাছে। শেষে দলে যোগ দেওয়ার জন্য সড়কপথে রাঁচি থেকে কলকাতা এসেছিলেন তিনি, সবান্ধবে। কয়েকমাস আগে তেমনই ঘটনা ঘটেছে মুকুলের সঙ্গেও। গত ডিসেম্বরে আমেদাবাদে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টোয়েন্টির ম্যাচ খেলছিল রাজস্থান। কার্তিক শর্মার চোটের জন্য ডাক পান মুকুল। সেসময় তিনি ছিলেন সিকরে নিজের বাড়িতে৷ ডাক আসে ৫ ডিসেম্বর। আর ঠিক তার পরদিন রাজস্থানের ম্যাচ ছিল দিল্লির সঙ্গে।
ইডেনে বিধ্বংসী ইনিংস মুকুল চৌধুরীর। ছবি: সংগৃহীত।
সিকর থেকে আমেদাবাদের দূরত্ব প্রায় সাতশো কিলোমিটার। শেষবেলায় তেমন কোনও ট্রেন পাননি মুকুল, যাতে করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। আর সেসময় ইন্ডিগোর সমস্যায় বিপর্যস্ত ছিল দেশের বিমান যোগাযোগ। সুযোগ যাতে হাতছাড়া না হয়, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সড়কপথে আমেদাবাদ রওনা হন তিনি। গাড়িতে, এক বন্ধুকে সঙ্গী করে। মুকুলের উপর মাহির প্রভাব কতটা? রাজস্থানের এই তরুণ ব্যাটার বলছিলেন, “এমএস ভাই আমার সবচেয়ে প্রিয়। আদর্শ বলতে পারেন। ওঁর থেকে এভাবে ম্যাচ শেষ করে আসার শিক্ষা পেয়েছি।"
মাহির সঙ্গে মুকুলের তফাত হল, সুযোগ হাতছাড়া হয়নি অনুজ উইকেটকিপার-ব্যাটারের। দিল্লি ম্যাচের দিন ভোরে টিম হোটেলে পৌঁছান মুকুল। কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে চলে যান মাঠে। সেদিনও এক দুরন্ত ঘূর্ণি উঠেছিল মুকুলের ব্যাটে। করেছিলেন ২৬ বলে অপরাজিত ৬২। যার মধ্যে শেষ ওভারে আয়ুষ বাদোনির (বর্তমানে যিনি এলএসজি-তে মুকুলের টিমমেট) শেষ ওভারে ২৫ তুলেছিলেন মুকুল। শেষ বলে ছয় মেরে জেতান দলকে। সেখান থেকে দলে স্থান পাকা হয়ে যায় তাঁর৷ সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ভালো খেলার পুরষ্কার পান আইপিএলে দল পাওয়ার মাধ্যমে। তারপর? শুধুই স্বপ্নের উড়ানে সওয়ার হয়ে উড়ে চলেছেন মুকুল।
