গত ম্যাচেই নিন্দুকরা বলেছিল, তিনি নাকি টি-২০তে অচল। কিন্তু যাবতীয় সমালোচকদের মুখের উপর যোগ্য জবাব দিয়ে দিলেন কে এল রাহুল। মাত্র ৪৭ বলে হাঁকালেন সেঞ্চুরি। আইপিএলে লিখলেন নতুন ইতিহাস। শনিবারের দুপুরে দিল্লি ক্যাপিটালসের ঘরের মাঠে ঝড় তুলে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। প্রায় ২২৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পারেন, একেবারে টি-২০র 'আদর্শ' মতোই।
ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে ‘ক্লাসি’ ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। চলতি আইপিএলেও খুব একটা খারাপ ফর্ম ছিল না। কিন্তু রাহুলের বিরুদ্ধে বারবার মন্থর ব্যাটিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছিলেন রাহুল। তারপরেই তাঁর বিরুদ্ধে গেল গেল রব ওঠে। দিল্লির ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট ভেনুগোপাল রাও পর্যন্ত নাম না করে তোপ দাগেন রাহুলকে।
সমালোচকদের জবাব দিতে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটাই বেছে নিয়েছিলেন কর্নাটকি ব্যাটার। ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রথম থেকেই দেড়শোর বেশি স্ট্রাইক রেটে ইনিংস সাজান। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, রাহুলের স্ট্রাইক রেটও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। শেষ পর্যন্ত তারকা ওপেনার থামলেন ১৫২ নট আউটে। আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয় হিসাবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসাবে নজির গড়লেন তিনি। ছিনিয়ে নিলেন অরেঞ্জ ক্যাপও। একঝাঁক রেকর্ড গড়লেন ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে।
রাহুলের দাপটে চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ দলগত রান করল দিল্লি। দারুণ ব্যাটিং করলেন নীতীশ রানাও। ৪৪ বলে তাঁর ব্যাট থেকে এল ৯১ রান। তাঁদের পার্টনারশিপে উঠল ২২০ রান, আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ঘরের মাঠে ২৬৪ রান তুলল দিল্লি ক্যাপিটালস। আইপিএলে এটাই তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে কোনও দল এত রান তুলতে পারেনি আইপিএলের ইতিহাসে। দলকে রানের পাহাড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেও রানের পাহাড় গড়লেন রাহুল। আইপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পিছনে ফেললেন মহেন্দ্র সিং ধোনি-সুরেশ রায়নাকে। আপাতত আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রাহুল।
