ভারতীয় টিমের কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যেভাবে বিজ্ঞপ্তি দেয়, সিএবিও এবার ঠিক একই পথে হাঁটল। বাংলার কোচ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হল। যা বঙ্গ ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। গত কয়েক বছর বাংলা ক্রিকেটে কোচের দায়িত্বে ছিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। লক্ষ্মীর কোচিং বাংলা খারাপ পারফর্ম করেছে, সেটা কেউ বলতে পারবেন না। রনজিতে টিম ফাইনাল খেলেছে।
এবছর গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশ পয়েন্ট পেয়েছে। সেমিফাইনালে একটা খারাপ সেশনের জন্য সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে। সিএবি কর্তাদের অনেকেই স্বীকার করে নিয়েছেন, কোচ হিসাবে লক্ষ্মী যথেষ্ট সফল। নতুন মরশুমে লক্ষ্মী থাকবেন কি না, সেটা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে তারই মাঝে সিএবি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আর সেটা শুধু সিনিয়র টিমের ক্ষেত্রে নয়। সব টিমের কোচের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
সিনিয়র টিমের কোচের জন্য যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের নির্দিষ্ট কয়েকটা শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন তাঁদের ন্যূনতম তিরিশটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ কিংবা একটা টেস্টে অথবা তিরিশ ওয়ানডে কিংবা ৪৫ টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর বাইরেও কোচের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। তবে তাঁর জন্য অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর কোনও সিনিয়র কিংবা বয়সভিত্তিক টিমের কোচের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একইসঙ্গে এটাও বলে দেওয়া হয়েছে, ষাটোর্ধ্ব কেউ আবেদন করতে পারবেন না। আগামী ১ মে বিকেল পাঁচটার মধ্যে আবেদন করতে হবে।
সিএবি'র তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাহলে নতুন কাউকে সিনিয়র টিমের কোচের চেয়ারে দেখা যাবে? আপাতত দু'টো নাম নিয়ে বেশ জল্পনা চলছে। ঋদ্ধিমান সাহা আর মনোজ তিওয়ারি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর বাংলা থেকে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন ঋদ্ধি। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে এসেছেন ঋদ্ধি। গতবার বাংলার অনূর্ধ্ব তেইশ টিমের কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। যা খবর, তাতে ঋদ্ধি সিনিয়র টিমের কোচ হওয়ার ব্যাপারে প্রবল দাবিদার। কেউ কেউ মনে করছেন, ঋদ্ধি যদি কোচের জন্য আবেদন করেন, তাহলে তাঁকেই হয়তো শেষপর্যন্ত কোচ করা হতে পারে। মনোজের নামও দৌড়ে রয়েছে। গতবার ভোটে জিতে রাজ্যের ক্রীড়া রাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এবার তিনি ভোটে লড়াইয়ের টিকিট পাননি। সিএবি কোনও কোনও মহল থেকে শোনা গেল, মনোজ নিজেও নাকি বাংলার কোচ হতে আগ্রহী। লক্ষ্মী নিজে কী করবেন, সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। এর বাইরেও ভিন রাজ্যের বেশ কয়েকটা নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও তাঁরা আবেদন করবেন কি না, সেটা পরিষ্কার নয়। নির্দিষ্ট সময়ের পর দেখা হবে কারা আবেদন করেছেন। সেখান থেকে আবেদনকারীর একটা শর্টলিস্ট করা হবে। তারপর তাঁদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটাই যে হবে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে, সেটা বলে দেওয়া যায়।
