ভারতবর্ষে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংখ্যা কম নয়। তবে কোনওটাই ঠিক পেসারদের স্বর্গরাজ্য নয়। কিছুটা ব্যতিক্রম ধরমশালা। পাহাড়ের কোলে নৈস্বর্গিক শোভার মাঝে এক টুকরো সবুজ মাঠ। আর তার বাইশ গজের পাল্লা কিছুটা ভারী থাকে পেসারদের দিকেই। পাহাড়ের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় স্যুইংয়ের সঙ্গে ক্যারি নামক 'উপঢৌকনে' ভরে ওঠে গতিদানবদের ঝুলি।
মঙ্গল-সন্ধ্যার সেই ধরমশালায় আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হচ্ছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং গুজরাট টাইটান্স। এবং কাকতালীয় ভাবে, দু'টো দলের পেস ব্রিগেডই যেন সোনায় মোড়া। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়! আরসিবি-র 'ইট' যদি ভুবনেশ্বর কুমার হয়, তবে গুজরাটও তৈরি কাগিসো রাবাদা নামের 'পাটকেল' নিয়ে। দুই চর্চিত পেসারই আইপিএলে নিয়ে নিয়েছেন ঠিক ২৪টা করে উইকেট। বেগুনি টুপির দৌড়ে তাঁরাই শীর্ষে। বাকি পেস ব্রিগেডও তারকাখচিত। গুজরাটের হাতে যদি মহম্মদ সিরাজ-প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের মতো অস্ত্র থাকে, তবে আরসিবি-র শক্তি বাড়াচ্ছে জশ হ্যাজেলউড-রসিখ সালামের গতি। দু'টো দলের স্পিন বিভাগও শক্তপোক্ত। গুজরাটের রশিদ খান বা আরসিবি-র সুয়াশ শর্মা ও ক্রুশাল পাণ্ডিয়ার ক্ষমতা আছে ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার। কিন্তু ম্যাচটা ধরমশালায় চলে আসায়, কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন তাঁরা। প্রচারের আলো পুরোটাই রাবাডা-সিরাজ-ভুবনেশ্বরদের উপরে।
অবশ্য পেসারদের বিক্রমের মধ্যেও ব্যাটারদের জন্য উপহার থাকছে ধরমশালায়। এবার এই মাঠে খান তিনেক হোম ম্যাচ খেলেছে পাঞ্জাব কিংস। মোট ছয় ইনিংসের মধ্যে পাঁচবারই উঠেছে দু'শোর বেশি রান। আর বাকি একবার রান উঠেছে ১৯৯। বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও তুল্যমূল্য লড়াই করার ক্ষমতা রাখে দু'পক্ষ। একদিকে আরসিবি-তে স্বয়ং বিরাট কোহলি। সেখানে গুজরাট ব্যাটিংয়ের মুখ বিরাটের উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত শুভমান গিল। দু'জনেই আইপিএলে রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে। বিরাট ১৪ ম্যাচে করেছেন ৫৫৭ রান। গিল আবার এক ম্যাচ কম খেলেও ৬১৬ রান করে কমলা টুপির অন্যতম দাবিদার। তাঁর সঙ্গে সাই সুদর্শনের (৬৩৮ রান করে সবার উপরে যিনি) ওপেনিং জুটিকে আইপিএলের সর্বকালের সেরা জুটি বলে আখ্যা দিয়েছেন স্বয়ং সুরেশ রায়না। ফর্মে আছেন গুজরাতের জস বাটলারও।
তাদের চিন্তা শুধু মিডল অর্ডার। সেখানে ওপেনিং নিয়ে সমস্যা থাকলেও দেবদত্ত পাড়িক্কল, রজত পাতিদার, ভেঙ্কটেশ আইয়ারদের নিয়ে গড়া আরসিবি-র মিডল অর্ডার দাপট দেখাচ্ছে। শক্তির বিচারে প্রায় সমান-সমান হলেও, ধরমশালায় খেলার অভিজ্ঞতার বিচারে গুজরাটের থেকে এগিয়ে থাকবে আরসিবি। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ এখানে খেলেছে তারা। এবার তিন ম্যাচে দু'টোতে জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। আর অন্য ম্যাচটায় আগে ব্যাট করে জিতেছেন বিরাটরাই। শেষ সাক্ষাতে গুজরাতের কাছে হারলেও সেই তথ্য আত্মবিশ্বাসী করবে তাঁদের।
