রাজার আসন-রাজার সাজ, সাজে বিরাট কোহলিকেই। আইপিএল ফাইনালে নিজের কেরিয়ারের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করে আরও একবার সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিং। কিন্তু আইপিএলের দুনিয়ায় কোহলিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে যদি কেউ সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়ে থাকেন, তিনি হলেন রজত পাতিদার। অধিনায়ক হিসাবে যাঁর নাম এবার উচ্চারিত হবে রোহিত শর্মা-মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে।
রাহুল দ্রাবিড় পারেননি, অনিল কুম্বলে পারেননি, ফ্যাফ ডু'প্লেসিস পারেননি। এমনকী বিরাট নিজে দীর্ঘদিন চেষ্টা করে যে কাজটি পারেননি, সেটা প্রথমবার দায়িত্ব নিয়েই করে দেখিয়েছেন রজত। ২০২৫ সালে আইপিএলের খেতাব যদি অধিনায়ক হিসাবে তাঁর পরিচিতি প্রাপ্তির মঞ্চ হয়, তাহলে ছাব্বিশের এই খেতাব নেতা হিসাবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বে সিলমোহর। রজত পাটিদার আইপিএল ভুবনের তৃতীয় অধিনায়ক যিনি পরপর দু'বার আইপিএল জিতলেন। আগের দু'জনের নাম শুনবেন-একজন মহেন্দ্র সিং ধোনি আর একজন রোহিত শর্মা।
রজত হয়তো নিজেও জানেন না কত বড় কাণ্ডটি ঘটিয়ে ফেলেছেন তিনি। আসলে সেভাবে লাইমলাইটে তিনি থাকেন না। যে আইপিএল দলে বিরাট কোহলি খেলেন, সেই দলে অন্য কারও উপর প্রচারের আলো পড়বে সেটা হয়তো প্রত্যাশা করাও ভুল। তাই পাতিদার নীরবে নিজের কাজটা করে যান। এবারও যেমন ব্যাট হাতে করে গিয়েছেন। দলের যখন দরকার পড়েছে নিজের সেরাটা দিয়ে গিয়েছেন। ১৫ ম্যাচে পাঁচশোর বেশি রান। গড় ৪১-এরও বেশি। স্ট্রাইক রেট ১৯২.৬৯! যেভাবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের বিখ্যাত বোলিং লাইনআপে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি সেটা ভোলার মতো নয়। আসলে গোটা মরশুমেই রজত অনবদ্য ব্যাটিং করেছেন। দল যখনই বিপদে পড়েছে, ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এখন প্রশ্ন, এবার কি জাতীয় টি-২০ দলে ডাক পাবেন তিনি?
রজত পাতিদার। ফাইল ছবি।
পাতিদার নীরবে নিজের কাজটা করে যান। এবারও যেমন ব্যাট হাতে করে গিয়েছেন। দলের যখন দরকার পড়েছে নিজের সেরাটা দিয়ে গিয়েছেন। ১৫ ম্যাচে পাঁচশোর বেশি রান। গড় ৪১-এরও বেশি। স্ট্রাইক রেট ১৯২.৬৯!
দেশের হয়ে যে একেবারে খেলেননি তা নয়। কিন্তু আর পাঁচজন প্রতিভাকে যেমন নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হয়-সেটা তাঁর কপালে জোটেনি। দেশের হয়ে বছর তিনেক আগে একটি ওয়ানডে খেলেন। সেবার করেছিলেন ২২ রান। ৩টি টেস্ট ক্যাপও আছে তাঁর। তাতেও সংগ্রহ মোটে ৬৬। এ কথা ঠিক যে তাতে দাগ কাটতে পারেননি। কিন্তু এটাও ঠিক যে তারপর ঘরোয়া ক্রিকেটে লাগাতার ভালো খেলেও ডাক পাননি জাতীয় দলে। এমনকী যে ফরম্যাটে তিনি স্পেশ্যালিস্ট সেই টি-টোয়েন্টিতে এখনও খেলা হয়নি মেন ইন ব্লু'র হয়ে। এবার জোড়া আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যদি তাঁর ভাগ্য ফেরে! আসলে রজতের মতো ব্যাটারের এই মুহূর্তে ভীষণ দরকার ভারতীয় টি-২০ দলে। বিশেষ করে নির্বাচকরা যেখানে সূর্যকুমার যাদবকে বিদায় দেওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার মনস্থ করেই ফেলেছেন-সেখানে মিডল অর্ডারে পাতিদারকে বাজিয়ে দেখতে তো ক্ষতি নেই। তিনি যেভাবে স্পিনটা খেলে দিতে পারেন-সেটা ভারতীয় ক্রিকেটে এই মুহূর্তে কজনই বা পারে। নিজের কাজটা রজত করে দিয়েছেন, এবার বাকি কাজটা নির্বাচকদের।
