আরসিবি: ১৭৫/৮ (সল্ট ৬৩, অক্ষর ১৮/২)
দিল্লি ক্যাপিটালস: ১৭৯/৪ (স্টাবস ৬০, ভুবনেশ্বর ২৬/৩)
৬ উইকেটে জয়ী দিল্লি ক্যাপিটালস
শেষ পর্যন্ত টানটান লড়াই। এক ওভারে বাকি ১৫ রান। তার আগের দুই ওভারে জশ হ্যাজেলউড, রশিখ দাররা দারুণ বোলিং করে দিল্লি ক্যাপিটালসের উপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসকে জেতালেন 'কিলার' মিলার। জয়ের হ্যাটট্রিক হল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। হাতছাড়া হল শীর্ষে ওঠার সুযোগও। শেষ ওভারে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসকে জয় এনে দিলেন ডেভিড মিলার। ত্রিস্তান স্টাবস, অক্ষর প্যাটেলরা যে মঞ্চ গড়ে দিয়েছিলেন, সেটাকেই হাতিয়ার করে ৬ উইকেটে দিল্লিকে ম্যাচ জেতালেন 'কিলার মিলার'। জলে গেল আরসিবি'র ফিল সল্টের ইনিংস।
টসে জিতে প্রথমে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। চিন্নাস্বামীতে এদিন সবুজ জার্সি পরে নেমেছিলেন বিরাট কোহলিরা। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছরই এই পদক্ষেপ নেয় আরসিবি। আরও একটি বিষয় হল, সাধারণত সবুজ জার্সি পরে নামলে বেঙ্গালুরুর ম্যাচ ভাগ্য সঙ্গ দেয় না। নাহলে যে ম্যাচে অনায়াসে ২০০-র উপর রান উঠত, সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসের রান কি না ১৭৫-এ থেমে যায়। বিরাট কোহলি (১৯) এদিন রান পাননি। লুঙ্গি এনগিডি'র বলে পাথুম নিসঙ্কার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। দেবদত্ত পাড়িক্কলের ব্যাট থেকেও রান আসেনি। অক্ষর প্যাটেল তাঁকে ফেরান ১৮ রানে। অধিনায়ক রজত পাতিদারও রান পাননি। আরসিবি'র ব্যাটিংকে একমাত্র ভরসা দেন ফিল সল্ট। ৩৮ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। ৪টে চারের সঙ্গে ৩টে ছক্কা হাঁকানোর পর কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন তিনি। সল্ট আউট হওয়ার পর আর কেউ সেভাবে রান পাননি। টিম ডেভিড (২৬), জিতেশ শর্মারা (১৪) রানের গতি বাড়াতে ব্যর্থ। যেখানে প্রথম দশ ওভারে আরসিবি'র রান ছিল ৯৯। সেখানে প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১৭৫ রানে। এনগিডি, অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদব ২টি করে উইকেট পান।
টি-টোয়েন্টিতে এই রানটা কঠিন কিছু নয়। তবে প্রথম ওভারেই দিল্লিতে ঝটকা দেন ভুবনেশ্বর কুমার। প্রথম ওভারেই পাথুম নিসঙ্কাকে ফেরান তিনি। ক্যাপিটালসকে ভরসা দিতে পারেননি করুণ নায়ার (৫), সমীর রিজভি (২)। ভুবির সুইংয়ে তখন দিল্লি বিপর্যস্ত। কিন্তু কেএল রাহুল ভরসা জোগান। এক দিকে অবিচল থেকে দিল্লিকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। হাফসেঞ্চুরি করার পরপরই বিরাট কোহলির অসাধারণ ক্যাচে আউট হন রাহুল (৫৭)। তবে রানের গতি বজায় রাখেন ত্রিস্তান স্টাবস ও অক্ষর প্যাটেল। শেষের দিকে আচমকাই কিছুটা চাপ তৈরি হয় দিল্লির উপর। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দিল্লির অধিনায়ক। ডেথ ওভারে জশ হ্যাজেলউড, রশিখ দাররা দুরন্ত বোলিং করে যান। কিন্তু 'কিলার' মিলারে জয় ছিনিয়ে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। স্টাবস শেষ পর্যন্ত ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে রোমারিও শেফার্ডকে বোলিংয়ে আনতে বাধ্য হয় আরসিবি। কিন্তু পরপর দু'টো ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দেন মিলার।
