ই-সিগারেটে সুখটান দেওয়ার দরুণ জেলযাত্রা হতে পারে রিয়ান পরাগের! মঙ্গলবার ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে তাঁকে ভ্যাপিং বা ইলেকট্রনিক সিগারেট ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে জবাব তলব করেছে বিসিসিআই। সূত্রের খবর, এই ক্ষেত্রে বোর্ডকে বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বাধ্য থাকবে বোর্ড। সেরকম হলে একবছরের জন্য হাজতবাস করতে হতে পারে রিয়ানকে।
মঙ্গলবার পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালস ইনিংসের ১৬তম ওভারে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের পাশে বসে ই-সিগারেট টানছেন রিয়ান। সেই দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল বিতর্ক শুরু হয় তারপর। কারণ ই-সিগারেট সেবন ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ড্রেসিংরুমে বসে যেকোনও রকমের ধূমপান করাই দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করেই রিয়ান যেভাবে ধূমপান করেছেন, সেটা যথেষ্ট ধিক্কারজনক। ইতিমধ্যেই বোর্ডের তরফ থেকে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, বোর্ডের নিয়মের আওতায় থেকেই শাস্তি দেওয়া হতে পারে রিয়ানকে। জরিমানা বা নির্বাসনের মতো সাজা পেতে পারেন।
কিন্তু বিষয়টি আরও গুরুতর মোড় নিতে চলেছে বলেই মত ক্রিকেটমহলের। যে ভাবে ড্রেসিংরুমে বসে পরাগ 'ভেপিং' করেছেন, তা বোর্ড কর্তারা মেনে নিতে পারছেন না। বেসরকারি ভাবে বলা হচ্ছে, প্রচুর ক্রিকেটারই ই-সিগারেট সেবন করেন। কিন্তু কেউ পরাগের মতো ড্রেসিংরুমে বসে এ ভাবে তাতে টান দেন না। বিশেষত সোশাল মিডিয়ার এমন রমরমার যুগে, 'ক্ষুধার্ত' ক্যামেরার আমলে। অনেকেই মনে করছেন, যা হল, তার পর বোর্ডের পক্ষে ব্যাপারটাকে ছেড়ে ফেলা সম্ভব হবে না। বরং পরাগের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বোর্ড। তবে রাজস্থান রয়্যালস টিমের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
২০১৯ সাল থেকে ভারতে ই-সিগারেট সেবন, উৎপাদন এবং বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কোনও ব্যক্তিকে যদি ই-সিগারেট সেবন করতে দেখা যায় তাহলে তাঁকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। প্রথমবার ই-সিগারেট সেবনেও এক বছরের কারাদণ্ড মিলতে পারে অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা। ক্রিকেটমহলের মতে, ভারতীয় আইন অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বোর্ডকে। এক্ষেত্রে বোর্ডের হাত-পা বাঁধা।
