বিশ্বের সবথেকে দামি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল (IPL 2026)। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ লিগের তালিকায় রয়েছে এই টুর্নামেন্ট। তবে এই বিপুল আর্থিক পরিসর সত্ত্বেও লিগের সর্বোচ্চ বেতন ২৭ কোটি টাকা। যা পান ঋষভ পন্থ। এতেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অভিনব মুকুন্দ। ২৮ মার্চ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচ দিয়ে ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে আইপিএলের। তার ঠিক আগেই আইপিএলের বেতন কাঠামো নিয়ে বিতর্ক উসকে দিলেন তিনি। প্রাক্তন ওপেনারের মতে, আইপিএলের সার্বিক আয়ের নিরিখে কম বেতন পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। তাই অবিলম্বে বেতনসীমা বাড়ানো উচিত।
দূরদর্শনের 'দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো'-এ মুকুন্দ বলেন, "আমি মনে করি আইপিএলের ক্রিকেটাররা খুবই কম বেতন পাচ্ছেন। আমার কথা শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু আইপিএলের যে বিশাল বাজারদর, তার তুলনায় এই বেতন যথেষ্ট নয়।" তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের অন্যান্য লিগের আর্থিক অবস্থা দেখুন। যেমন বেসবল বা ফর্মুলা ওয়ান। সেখানকার খেলোয়াড়রা যে বেতন পান, তার তুলনায় ২০-২৫ কোটি টাকা কোনও ব্যাপারই নয়। সেই কারণেই আইপিএলের বেতনের অঙ্কটা ততটা বড় মনে হয় না।"
তিনি বলেন, "যদি আইপিএল বিশ্বের সেরা চার-পাঁচটি লিগের মধ্যে থাকে, তাহলে ক্রিকেটারদের বেতনও সেই মানের হওয়া উচিত। বেতনের দিক থেকে তো শীর্ষ ১০ বা ২০-র মধ্যেও পড়ে না আইপিএল।"
তিনি যোগ করেন, "যদি আইপিএল বিশ্বের সেরা চার-পাঁচটি লিগের মধ্যে থাকে, তাহলে ক্রিকেটারদের বেতনও সেই মানের হওয়া উচিত। বেতনের দিক থেকে তো শীর্ষ ১০ বা ২০-র মধ্যেও পড়ে না আইপিএল। যদি কেউ শীর্ষ আইপিএল থেকে বিরাট আয় করে থাকেন, তা মূলত বিজ্ঞাপন থেকে। আইপিএলের বেতন থেকে নয়। আমি মনে করি, বেতনের নির্দিষ্ট কোনও সীমা থাকা উচিত নয়। কারণ আইপিএলে ক্রিকেটারদের আরও বেশি বেতন দেওয়া সম্ভব।"
মুকুন্দের সংযোজন, "বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী কোনও আইপিএল দল বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা আয় করে। সেই তুলনায় বর্তমানে খেলোয়াড়দের জন্য বেতন বাবদ ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার মতো খরচ করা হয়। এই টাকা আরও কিছুটা বাড়ানো উচিত। আমার মতে, সামগ্রিক বেতনসীমা অন্তত দ্বিগুণ করে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটির মধ্যে রাখা উচিত।" উল্লেখ্য, খেলোয়াড়ি জীবনে চেন্নাই সুপার কিংস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে খেলেছেন তিনি। যদিও বেশি সুযোগ পাননি। ভারতীয় দলের হয়ে তাঁর লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ২০১১ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। দেশের হয়ে ৭টি টেস্ট খেলেছেন অভিনব।
