সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ঘরের মাঠে একেবারেই দাঁত ফোটাতে পারেনি কেকেআর। ইডেনে ৬৫ রানে হেরে গিয়েছে অজিঙ্ক রাহানের দল। টানা দুই ম্যাচে হারের পর ক্যামেরন গ্রিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হচ্ছে কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে। ম্যাচ শেষে স্টার স্পোর্টসের 'আমুল ক্রিকেট লাইভ'-এ বিশ্লেষণে বসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর এবং পীযূষ চাওলা।
কেকেআরের দল গঠন ও ক্যামেরন গ্রিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গাভাসকর বলেন, "গ্রিন যদি বোলিং না করেন, তাহলে কেকেআরকে তাদের কম্বিনেশন নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে। সেক্ষেত্রে অন্য একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার আনার কথাও ভাবা উচিত। আমরা জানি, ও আইপিএলে শতরান করেছে। কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি লাল বলের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছে। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক ফর্ম আহামরি নয়। চার নম্বরে গ্রিন ঠিক আছে। কিন্তু পাঁচ ও ছয় নম্বর পজিশনটাই এখন বড় চিন্তার জায়গা।"
অন্যদিকে, হায়দরাবাদের অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডির বোলিংয়ের উন্নতিতে মুগ্ধ সানি। তাঁর কথায়, "ও এখন অনেক বেশি গতিতে বল করছে। অ্যাকশনেও আগের থেকে বেশি ছন্দ দেখা যাচ্ছে। ফিটনেস ও শারীরিক শক্তি বাড়ার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। বলেও বেশি বাউন্স পাচ্ছে। যা ভারতের জন্য খুবই ইতিবাচক খবর।"
হায়দরাবাদের ইনিংস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপের কথা তুলে ধরেন পীযূষ চাওলা। "শুরুটা খুব ভালো করেছিল হায়দরাবাদ। এমন শুরু হলে সেখানেই ম্যাচ জয়ের ভিত গড়ে ওঠে। যদিও মাঝের ওভারে কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় গতি কমে গিয়েছিল। তবে হেনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডির জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ক্লাসেন সাধারণত যেমন খেলেন, তার থেকে অনেক বেশি ধৈর্য নিয়ে খেলছে। ওর ইনিংসই শেষ পর্যন্ত দলকে ২২০-র বেশি রানে পৌঁছে দেয়।"
সব মিলিয়ে, এই জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল হায়দরাবাদ। অন্যদিকে, আইপিএলে প্রথম দু’টি ম্যাচে হেরে কোণঠাসা নাইটরা। আশাহত করেছেন ক্যামেরন গ্রিন। অনেকেই মনে করছিলেন, আন্দ্রে রাসেলের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন ২৫ কোটির অজি অলরাউন্ডার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার পূর্বাভাস নেই। প্রথম দুই ম্যাচে বল করেননি, ব্যাট হাতেও করেছেন ১৮ ও ২ রান। এখন প্রশ্ন হল, কামব্যাকের রাস্তায় প্রাক্তনদের কথা কি শুনবে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট।
