বর্তমানে তাঁকেই রাহুল দ্রাবিড়ের যোগ্য উত্তরসূরি বলে মনে করে ভারতীয় ক্রিকেটমহল। তিনি নাকি ভারতীয় ক্রিকেটের 'মিস্টার ডিপেন্ডেবল'। কিন্তু সেই কে এল রাহুল নিজেকে গুরুত্ব দিতে একেবারে নারাজ। কেরিয়ারে সম্ভবত সেরা সময়ে থাকলেও রাহুল ভাবছেন অবসর নিয়ে। এমনকি এটাও বলছেন, অবসর খুব একটা দূর নয়। তাহলে কি কেরিয়ারের মধ্যগগনে থেকেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন রাহুল?
টি-২০তে ব্রাত্য হয়ে গেলেও টেস্ট এবং ওয়ানডেতে ভারতীয় দলে নিয়মিত খেলেন এই কর্নাটকি ব্যাটার। ওয়ানডে'তে উইকেটকিপিং করেন। প্রয়োজনে দলকে নেতৃত্বও দেন। কিন্তু এতকিছু করেও নিজেকে ভারতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতে পারেন না রাহুল। সম্প্রতি প্রাক্তন ইংল্যান্ড তারকা কেভিন পিটারসেনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি সবসময় নিজেকে বলি, আমি সেরকম কেউকেটা নই।" যেহেতু নিজেকে ভারতীয় ক্রিকেটের সুপারস্টার বলে মনে করেন না, সেই কারণেই অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হবে বলে মত রাহুলের।
কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকলেও দ্রুত অবসর নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাহুল। ওই সাক্ষাৎকারেই বলেন, "আমাদের দেশে ক্রিকেট তো চলতেই থাকবে। কিন্তু তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু রয়েছে আমাদের জীবনে। কিন্তু আমার প্রথম সন্তানের জন্মের পর থেকে সমস্ত কিছুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে পালটে গিয়েছে। এখন এটাই মনে করি, আমার সঙ্গে আমার পরিবার রয়েছে। সেটাকেই উপভোগ করো।" তারকা ব্যাটারের কথায়, যেহেতু নিজেকে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না তাই অবসর নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয় না। নিজের প্রতি সততা থাকলেই অবসর প্রসঙ্গে স্বচ্ছভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে মনে করছেন রাহুল।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় রাহুলের। প্রতিভাবান হলেও কেরিয়ারের শুরুর দিকে একেবারেই জাতীয় দলে নিজেকে পোক্ত করতে পারেননি তিনি। সেটার অন্যতম কারণ একাধিক চোট আঘাত। তবে গত বছরতিনেক ধরে ভারতীয় দলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন তিনি। আইপিএলেও সফল হয়েছেন গত মরশুমে। তবে অন্যান্যদের তুলনায় তিনি ক্রিকেট থেকে দ্রুত অবসর নেবেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাহুল।
