ট্রেনে-বাসে লেডিজ সিট কেন? লেডিজ কামরা কেন? নিত্যযাত্রীরা প্রতিদিনই এই প্রশ্ন তোলেন। পরিবহণে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ থাকা উচিত কিনা সেই নিয়ে চলে নিরন্তর তর্ক। তবে সেই মহিলা কামরা ঘিরেই বিরাট উদ্যোগ নিল মুম্বই লোকাল। সেখানকার লোকাল ট্রেনগুলির মহিলা কামরায় আর 'মহিলা' শব্দটি লেখা থাকবে না। তার পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে বিশ্বকাপজয়ী হরমনপ্রীত কউর এবং আমনজ্যোৎ কউরের ছবি।
অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে মধ্য রেল। গত বছর নভেম্বর মাসে হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতের মহিলা দল। এই প্রথমবার বিশ্বসেরার শিরোপা উঠেছে উইমেন ইন ব্লুর মাথায়। ফাইনাল ম্যাচে অনবদ্য ক্যাচ নিয়েছিলেন আমনজ্যোৎ। বর্তমানে তাঁরা দু'জনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ডব্লিউপিএল খেলছেন। দুই বিশ্বকাপজয়ীকে সম্মান জানিয়েই লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরাগুলি থেকে 'লেডিজ' শব্দটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ১০ টি রেকে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মধ্য রেল সূত্রে খবর।
এই উদ্যোগে রেলের সঙ্গে রয়েছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। মহিলা কামরায় স্রেফ হরমনদের ছবি নয়, থাকছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের টিম ছবিও। সেই বাবদ তিন মাসের জন্য় ৯ লক্ষ টাকাও দেওয়া হচ্ছে মধ্য রেলকে। তবে মুম্বই লোকালের এহেন পদক্ষেপে খুশি আমজনতার একটা বিরাট অংশ। সোশাল মিডিয়ায় অনেকে লিখেছেন, মুম্বই লোকালে চেপে প্রতিদিন বহু তরুণী যাতায়াত করেন। মহিলাদের বিশ্বজয়ের এই ছবি তাঁদের উদ্বুদ্ধ করবে। সব বয়সের মহিলারাই অনুপ্রেরণা পাবেন এই ছবি দেখে। কেউ বা আবার বলছেন, 'শাবাশ লেডিজ।'
প্রথমবার মহিলাদের বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে মহিলা ক্রিকেটারদের নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মহিলা ক্রিকেট নিয়ে আশাও। বর্তমানে ডব্লিউপিএলের জনপ্রিয়তও অনেকখানি বেড়েছে। আগামী জুন মাসে ইংল্যান্ডে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ভারতের মহিলা ব্রিগেড। সেখানেও সফল হবেন স্মৃতি মন্ধানারা, আশায় বুক বাঁধছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
