মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চারবার ভারতের বিরুদ্ধে হার। প্রতিবারই কার্যত একপেশে। এর মধ্যে ৩ বার এশিয়া কাপে। একবার বিশ্বকাপে। শুধু তাই নয়, অন্য বড় দলের বিরুদ্ধেও সেই ব্যর্থ পাকিস্তান। তাই বিশ্বকাপের পরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে আমূল বদল আনার পথে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। সূত্রের খবর, বিশ্বকাপের পর পুরো দলের খোলনলচে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন নকভি। যার শুরুটা হচ্ছে বাবর আজমকে বাদ দিয়ে।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের দলে বাবরকে রাখেনি পাকিস্তান। আসলে মহসিন নকভি ঠিক করে ফেলেছেন, বিশ্বকাপের পর অন্তত টি-২০ ক্রিকেটে আর ভাবাই হবে না বাবরকে। ওয়ানডে-তেও যে তাঁর বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, সে ইঙ্গিত মিলল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দল ঘোষণার পরই। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে বাজে ফর্মে বাবর। তার উপর টি-২০ বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। ফলে যা পরিস্থিতি তাতে সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর কেরিয়ারে কার্যত ইতি পড়ে গেল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাবরের অফ-ফর্মই সম্ভবত তাঁর বাদ পড়ার মূল কারণ। বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১১২.৩৪ স্ট্রাইক রেটে মাত্র ৯১ রান করেছিলেন তিনি। ওয়ানডেতেও ইদানিং রান পাচ্ছিলেন না তিনি। গত বছর ১৭ ম্যাচে ৫৪৪ রান করেছেন তিনি। গড় মাত্র ৩৪। স্ট্রাইক রেট ৭৭। ফলে বাবরেরবাদ পড়া অবশ্যম্ভাবী মনে হচ্ছিল। সেটাই হল। একটা সময় যাকে বিরাট কোহলির সঙ্গে তুলনা করে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভক্তরা। তাঁর কেরিয়ার কার্যত শেষ হচ্ছে করুণভাবে।
একা বাবর নন, পাক দল থেকে বাদ পড়েছেন সাইম আয়ুবও। বড় চমক হিসেবে পাকিস্তান দলে সুযোগ পেয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান, যিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান করে ফর্মে আছেন। দলে নতুন মুখ রয়েছেন ৫ জন। আসলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তরুণদের খেলিয়ে দলে আগামীর সূচনা করতে চাইছেন নকভিরা।
পাকিস্তান দল:
শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হুসেইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মহম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মহম্মদ ওয়াসিম, মহম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটকিপার), শান মাসুদ, শাহিবজাদা ফারহান, সালমান আঘা এবং শামিল হোসেন।
