কথায় বলে বিপদকালে বন্ধু চেনা যায়। কিন্তু বন্ধু যখন বিপদের ছদ্মবেশ ধরে আসে, তখন হয় মুশকিল। তবে শত্রুকে বন্ধু বানালে কী হয়, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কেউ যদি পাকিস্তানকে 'বন্ধু' হিসেবে বেছে নেয়, তাহলে বিপদ হওয়াটা নতুন কিছু নয়। সমস্ত অতীত ভুলে এখন পাকিস্তানই বাংলাদেশের 'ভাইজান'। মজার বিষয় হল, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না। কিন্তু পাকিস্তান ঠিকই খেলবে। আর নিজেদের পছন্দমত জায়গাতেই খেলবে। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোটা যে ভাঁওতা, সেটা কি বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনও বোর্ড বুঝতে পারছে না?
ঘটনার সূত্রপাত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায়। পালটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বলে বসে, তারা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতেই আসবে না। বিসিসিআই পরিচালিত আইপিএল আর আইসিসি টুর্নামেন্ট তো এক বিষয় নয়। কিন্তু 'ভারত বিদ্বেষ' দেখাতে গিয়ে 'বয়কটের' পথ বেছে নেয় বিসিবি। শেখ হাসিনার অপসারণের পর থেকে তারা শুধু ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায়নি। বরং একসময়ের শাসক পাকিস্তানের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়িয়েছে ইউনুস সরকার। ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক এমনকী সেনাবাহিনীর বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দু'দেশের মধ্যে।
সেটা অবশ্যই দু'দেশের নিজস্ব ব্যাপার। তার ভবিষ্যৎ কী সেটা সময়ই বলবে। কিন্তু 'নিজের বুঝ পাগলেও বোঝে।' ক্রিকেটে সেটা খুব দ্রুত বোঝা গেল। বাংলাদেশ যখন জানিয়ে দেয়, তারপরই তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় পাকিস্তান। সরকারি ও বেসরকারি, দু'ভাবেই 'পাশে দাঁড়ানোর' খবর ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসি'কে চিঠি দিয়েছে। আইসিসি'র ভোটাভুটিতেও তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ হেরেছে ১৪-১ ভোটে। একটিমাত্র ভোট পাকিস্তানেরই। জিম্বাবোয়ের মতো দেশও ভোট দেয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বা বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেটা প্রকাশ্যে বলতেও পারছেন না।
আইসিসি'র ভোটাভুটিতে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ হেরেছে ১৪-১ ভোটে। একটিমাত্র ভোট পাকিস্তানেরই। জিম্বাবোয়ের মতো দেশও ভোট দেয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বা বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেটা প্রকাশ্যে বলতেও পারছেন না।
কিন্তু এটাও ঠিক, পাকিস্তান কখনই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। আসলে তারা ভারতের বিরোধিতা করেছে। এশিয়া কাপের সময় থেকে যেভাবে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি পদে পদে অপমানিত হয়েছেন, তাতে তিনিও ‘প্রতিশোধে’র রাস্তা খুঁজছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীদের একটা অংশ কিন্তু বলতে শুরু করেছে, পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি, তারা ভারতের বিরোধিতা করেছে। ভারতের বিরোধিতা করার জন্য পাকিস্তান যে কোনও দেশের পাশে দাঁড়াতে পারে। এক্ষেত্রে সেটা বাংলাদেশ। দুই পক্ষই এখন ‘ভারত বিরোধিতা’য় একসুর। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মদন লাল বলেছেন, "পাকিস্তান বাংলাদেশকে উসকেছে ভারতে বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ না করার জন্য। ওরা শুধু চায় ভারতের ক্ষতি করতে।" আর বাংলাদেশ কি না বিশ্বাস করেছে, মহসিন নকভির বোর্ড তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে!
কিন্তু পাকিস্তান কখনই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। আসলে তারা ভারতের বিরোধিতা করেছে। এশিয়া কাপের সময় থেকে যেভাবে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি পদে পদে অপমানিত হয়েছেন, তাতে তিনিও ‘প্রতিশোধে’র রাস্তা খুঁজছেন।
তাহলে কি পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করবে? না, একেবারেই নয়। কিন্তু বাংলাদেশকে প্ররোচিত করার জন্য তারা রটিয়ে দেয় যে, তারা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বন্ধ রেখেছে। প্রয়োজনে বয়কটের রাস্তাও নিতে পারে। এমনকী পাকিস্তানে বাংলাদেশের খেলার দরজাও খোলা রাখছে। যে খবর বিশ্বাস করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় অংশ। সোশাল মিডিয়ায় লেখালেখি করেছে। আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে আসন্ন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকবে, সেটা বোঝা কঠিন কিছু নয়। সেই রটিয়ে দেওয়া খবরের জেরও ভুগতে হল বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। নাম কা ওয়াস্তে আইসিসি'র মিটিংয়ে বিসিবি'র পক্ষে ভোট দিয়ে পাকিস্তান শুধু চোখে ধুলো দিল। তারা নিজেরা খেলবে শ্রীলঙ্কায়, পছন্দের ভেন্যুতে। পাক বোর্ডের অন্তত সেই ক্ষমতা আছে যে, তারা আইসিসি বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দর কষাকষি করতে পারে। সেই অনুযায়ী হাইব্রিড মডেলে তারা শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
বাংলাদেশের কি সেই ক্ষমতা আছে? একেবারেই নেই। বিসিবি'র নিজের অবস্থানই ঠিক নেই। শুধুমাত্র ভারত বিরোধিতার জন্য তারা 'রণংদেহি' মেজাজ ধরে বসে আছে। আসিফ নজরুল বা আমিনুল ইসলামের সাংবাদিক সম্মেলনের ভাষা শুনলেই সেটা বোঝা যায়। সেই ভাষায় দর কষাকষি চলে কি? পাকিস্তানের ছায়া অনুসরণ করতে গিয়ে তারা নিজেদের সম্ভবত সেরকম শক্তিমান ভেবেছিল। এর তাৎক্ষণিক ফল, জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের জেরে আপাতত বিশ্বকাপ খেলা হবে না বাংলাদেশের। এরপর আইসিসি'র শাস্তি, জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা, অনেক কিছুই আসতে পারে। অনেকেই আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের কবর খোঁড়া শুরু হল। 'দ্বেষে'র প্রভাবে ভবিষ্যৎ অন্ধকার বাংলাদেশ ক্রিকেটের!
