টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজুড়ে হতশ্রী পারফরম্যান্স পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের। তার শাস্তি হিসাবে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লক্ষ জরিমানা করেছে পাক বোর্ড, এমনটাই সূত্রের খবর। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের তুমুল সমালোচনা করলেন শাহিদ আফ্রিদি। তাঁর প্রশ্ন, অর্থ দিলেই কি ফর্ম ফিরবে? এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কুরুচিকর এবং নিম্ন মানসিকতার পরিচয় বলেই মত প্রাক্তন অলরাউন্ডারের।
বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠলেও শেষমেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পাক ব্রিগেড। শোনা গিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য মোটা টাকা গচ্চা দিতে হবে শাহিন শাহ আফ্রিদিদের। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে পাক মুদ্রায় ৫ মিলিয়ন জরিমানা দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৬.২৮ লক্ষ টাকা। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতের কাছে হারের পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল পিসিবি। তবু বোর্ড কর্তারা অপেক্ষা করছিলেন যদি সলমনরা সেমিফাইনালে যেতে পারে। কিন্তু সেটা হয়নি। ফলে জরিমানা দিতেই হবে পাক দলকে। তবে সরকারিভাবে এই নিয়ে কোনও ঘোষণা করেনি পাক বোর্ড।
জরিমানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আফ্রিদি। তাঁর কথায়, "এই সিদ্ধান্তটা মাথায় ঢুকছে না। খুব কুরুচিকর চিন্তাভাবনা। ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে কী হবে? আমার মতে এটা কোনও জরিমানাই নয়। যারা খেলতে পারেনি তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠিয়ে দিতে হবে। আমার তো মনে হয় কিছু ক্রিকেটার আছে যাদের অন্তত দু'বছর রেখে দিতে হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। এই সময় একবারও পাক দলে ডাকা হবে না ওই ক্রিকেটারদের। এটাই আসল শাস্তি।"
আফ্রিদি আরও বলেন, ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে কোনও লাভ হবে না। বরং ক্রিকেটারদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। যেহেতু পাক বোর্ডের তরফ থেকে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তাই জরিমানার শাস্তি আদৌ হবে কিনা সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি। উল্লেখ্য, ভারতের কাছে হারের পরই পাক ব্রিগেডকে তুলোধোনা করেছিলেন তিনি। নিজের জামাই শাহিন আফ্রিদিকে দল থেকে বের করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। বিশ্বকাপে হতশ্রী পারফর্ম করা পাক দলকে শাস্তি দেওয়ারও পক্ষপাতী তিনি। কিন্তু আর্থিক জরিমানা করে নয়।
