বাংলা তথা ভারতের প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের আটানব্বইতম জন্মদিনে ফের বিতর্কে জড়াল সিএবি (CAB)। পঙ্কজের জন্মদিন পালনে তাঁর পুত্র প্রণব রায়কেই না ডেকে! যিনি উষ্মা দেখিয়ে সরাসরি বলে দিলেন, সিএবির উচিত পঙ্কজের জন্মদিন আর পালনই না করা!
ঠিক কী হয়েছে?
রবিবার প্রয়াত পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন ছিল। যা প্রতিবারের মতো এবারও পালন করেছে সিএবি। এ দিন শহরে ছিলেন না সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিব বাবলু কোলে এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। বোর্ডের আমন্ত্রণে তাঁরা আইপিএল ফাইনালের আমেদাবাদে ছিলেন। কিন্তু সৌরভদের অনুপস্থিতিতে যে এ হেন বিতর্ক জন্ম নেবে, কে জানত?
প্রথমে পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পালনের সময় নিয়ে বিভ্রাট। সিএবি-র কোনও কোনও আধিকারিক ভেবেছিলেন যে, সন্ধে ছ’টা থেকে অনুষ্ঠান। কিন্তু ‘ভুলবশতঃ’ তাঁরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিকেল পাঁচটায়! এ পর্যন্ত তবু ঠিক ছিল। কিন্তু এরপর আবিষ্কার হয় যে, পঙ্কজ-পুত্র প্রণবকেই ডাকা হয়নি়!
রবিবার প্রয়াত পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন ছিল। যা প্রতিবারের মতো এবারও পালন করেছে সিএবি। এ দিন শহরে ছিলেন না সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিব বাবলু কোলে এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। বোর্ডের আমন্ত্রণে তাঁরা আইপিএল ফাইনালের আমেদাবাদে ছিলেন। কিন্তু সৌরভদের অনুপস্থিতিতে যে এ হেন বিতর্ক জন্ম নেবে, কে জানত?
শোনা গেল, রবিবার বিকেল সওয়া পাঁচটা নাগাদ প্রণবকে ফোন করেন সিএবি যুগ্ম-সচিব মদন ঘোষ। সত্তর হয়ে যাওয়ার পরেও যাঁর বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় বহাল থাকা নিয়ে বিগত কয়েক দিন লাগাতার ঝামেলা হয়েছে। তা, মদন নাকি ফোন করে প্রণবকে বলেন যে, তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি কেন? উত্তরে প্রণব সিএবি যুগ্ম-সচিবকে সটান বলে দেন যে, তাঁকে তো ডাকাই হয়নি! খামোখা যাবেন কেন?
রবিবার সন্ধেয় প্রণব বলছিলেন, “সিএবি-র এ ধরনের কাজকর্মে আমি এতটুকু আশ্চর্য নই। গত বারও বাবার জন্মদিনে সিএবি গিয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর যখন বলি যে বেরিয়ে যাব, সেই সময় তড়িঘড়ি অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এবার আমাকে আমন্ত্রণই জানানো হল না। আর সিএবি যুগ্ম সচিব কি না ফোন করে বিকেল সওয়া পাঁচটায় বলছেন, আমি যাইনি কেন? বলছেন, কেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ দেখিনি? আমি তো নেই-ই কোনও গ্রুপে। না থাকলে কী ভাবে দেখব আমি? আর যদি বা দিয়েও থাকে গ্রুপে, পঙ্কজ রায়ের জন্মদিনে গ্রুপ দেখে আসতে হবে?” সঙ্গে প্রবল ক্ষুব্ধ ভাবে যোগ করেন, “দেখুন, পঙ্কজ রায় তো আর ছেলেখেলার বিষয় নন। উনি বাংলা ক্রিকেটের জনক। বাংলা ক্রিকেটের ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না পঙ্কজ রায়কে ছাড়া। তার জন্মদিন ঘিরে এ জিনিস হবে? খুব দুঃখজনক। এর চেয়ে জন্মদিন না পালন করলেই হয়! সিএবি কেন এ সমস্ত ঝামেলায় জড়ায় নিজেকে?”
রবিবার সন্ধেয় প্রণব বলছিলেন, “গত বারও বাবার জন্মদিনে সিএবি গিয়েছিলাম। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর যখন বলি যে বেরিয়ে যাব, সেই সময় তড়িঘড়ি অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এবার আমাকে আমন্ত্রণই জানানো হল না। আর সিএবি যুগ্ম সচিব কি না ফোন করে বিকেল সওয়া পাঁচটায় বলছেন, আমি যাইনি কেন? বলছেন, কেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ দেখিনি?
উদ্ভুত এই বিতর্ক নিয়ে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর তরফে মদন ঘোষকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ফোনে বলেন, “ফোনে কিছু আমি বলব না। কথা বলতে হলে, সিএবিতে এসে বলতে হবে!” তবে সংস্থার সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্ত স্বীকার করলেন যে, “অবশ্যই আমাদের তরফে প্রণব রায়কে আলাদা করে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সেটা যে হয়নি, আমার জানা ছিল না।’’ সঙ্গে যোগ করেন, “এই অনুষ্ঠান প্রতি বছরই হয়। আমার কাছে প্রণবের ফোন নম্বর নেই। তবে এটাও ঠিক, গ্রুপে জানানো হয়েছিল অনুষ্ঠানের বিষয়টা। আমি জানতাম, উনি গ্রুপে আছেন। কিন্তু তিনি যে গ্রুপে নেই, জানতাম না।” সিএবি সহ সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করা হয়, গ্রুপে কেন? পিতা পঙ্কজের জন্মদিনে কেন তাঁর পুত্র প্রণবকে ব্যক্তিগত ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে না? এবার নীতীশরঞ্জনের উত্তর, “মানছি। আমাদের ওঁকে আলাদা করে জানানো উচিত ছিল। আমাদের যিনি সিইও, সেই চিন্ময় নায়েকের উচিত ছিল বিষয়টা দেখা। আমরা তো পদাধিকারী। উনি সিইও। এটা তো অফিসের দায়িত্ব।”
পঙ্কজ-পুত্র প্রণব রায়।
রাতে নাটক আরও বাড়ল। সিএবি-র তরফে সরকারি বিবৃতি দিয়ে জানানো হল, প্রণব রায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে আমন্ত্রণ ব্যক্তিগত ছিল, নাকি নিছকই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, জানায়নি বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা।
