এক রান তখনও দরকার। ১৯তম ওভারের শেষ বল। গুজরাত টাইটান্সের আরশাদ খানের করা সেই বল গ্যালারির বাইরে পাঠিয়ে দেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। আর সেই শটেই নিশ্চিত হয়ে যায় আইপিএল উনিশের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB IPL Champion)। মুহূর্তের মধ্যেই আহমেদাবাদের স্টেডিয়াম ভরে ওঠে আরসিবি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে। হেলমেট খুলে সেলিব্রেশন করেন কোহলি। গ্যালারিতে আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন অনুষ্কা শর্মা। ম্যাচের পর কোহলি জানান, তিনি স্বপ্ন দেখতেন কোনও দিন তাঁর শটেই দল চ্যাম্পিয়ন হবে।
ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে, এটা যেন স্বপ্ন। অনেকবার কল্পনা করেছি, জয়ের শটটা আমার ব্যাট থেকেই এসেছে।” তাঁর সংযোজন, “এই দলে এখন এমন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে মাঠে নামলে মনে হয় না আমাকেই সব করতে হবে। সবাই ম্যাচ জেতাতে পারে। আমরা জানতাম কী করতে পারি। লিগে শীর্ষে শেষ করেছি। নিজেদের পরিকল্পনা মেনে খেললে কেউ আমাদের হারাতে পারবে না।”
ম্যাচ জিতিয়ে ফিরছেন বিরাট। ছবি সংগৃহীত।
আইপিএলে প্রথম ট্রফির জন্য আঠারো বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরসিবি-কে। তবে দ্বিতীয়টা তারা পেয়ে গেল এক বছরের মধ্যেই। আর সেই সাফল্যের জন্য রীতিমতো আটঘাট বেঁধেই নেমেছিল আরসিবি। ফাইনালে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে সেকথা ফাঁস করেছেন বিরাট কোহলি। দলের দ্বিতীয় ট্রফি হাতে নেওয়ার আগে কিং-উবাচ, "আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল পয়েন্ট টেবলে সেরা দুইয়ের মধ্যে শেষ করা। সেটা সফলভাবে করতে পেরেছি। আর তারপর ফাইনাল। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, আমরা ফাইনালে কার বিরুদ্ধে খেলতে চাই? জবাবে বলেছি, প্রতিপক্ষ নিয়ে আমরা ভাবছি না। শুধু নিজেদের দলে ফোকাস করছি। এমন নয় যে প্রতিপক্ষকে সম্মান করছি না। তবে নিজেদের পারফরম্যান্সে ভরসা রাখছি। দলে অনেক অভিজ্ঞ মুখ রয়েছে। তারা কঠিন সময়ে অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সাহায্য করেছে। উত্তেজনা থাকা ভালো। তবে কাজের সময়ে দায়িত্বশীল হতে হয়। সেই কাজটা সাফল্যের সঙ্গে করেছি।"
নিজের আইপিএল কেরিয়ারের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরিটা করেছেন বিরাট। তিনি বলছিলেন, "খেলার চরিত্র এখন বদলে গিয়েছে। তরুণরা আরও ভালো খেলতে কার্যত বাধ্য করে। তাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানানসইভাবে পারফর্ম করতে হয়। সবসময় কীভাবে নিজের খেলা আরও ভালো করা যায়, সেদিকে নজর থাকে।" গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিং শুরু থেকেই চাপে ছিল। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় রান তুলতে ব্যর্থ হয় তারা। ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। মাঝপথে কিছু উইকেট পড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত আরসিবি-র হাতেই থাকে।
বিরাটকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রুণাল পাণ্ডিয়া, জিতেশ শর্মারা। ছবি সংগৃহীত।
ট্রফি জিতে উচ্ছ্বসিত ক্রুণাল পাণ্ডিয়া বলেন, “ট্রফি জেতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও সন্দেহ ছিল না। প্রতিটি ট্রফিই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ ও একটি হারের পর দল আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। তাঁর সংযোজন, “১১ বছরে পাঁচটি আইপিএল জয় সত্যিই বিশেষ। এই জয় সমর্থকদের জন্য।” উল্লেখ্য, আরসিবি-তে আসার আগে তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ট্রফি জিতেছেন। অন্যদিকে, জিতেশ শর্মা কৃতিত্ব দিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্ট ও দীনেশ কার্তিককে। তিনি বলেন, “মো বোবাট বলেছিলেন, আমরা ট্রফি রাখতে নামছি। ট্রফি তাড়া করতে নয়। এই কথাই আমাদের মানসিকতা বদলে দিয়েছিল। টিম ম্যানেজমেন্টেরও কৃতিত্ব প্রাপ্য। ওরাই তো আমাদের চাঙ্গা করে গিয়েছেন। দীনেশ কার্তিকও সাহায্য করেছেন।”
