সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড় কি বোর্ড কর্তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না? এমনই প্রশ্ন এবার উঠতে শুরু করেছে। কারণ বোর্ডের নির্ধারিত ইয়ো ইয়ো টেস্টকে পাত্তা দিতে নারাজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড়।
[ম্যাচের আগে কোচের সঙ্গে মন্দিরে পুজো দিলেন ধাওয়ানরা]
বর্তমানে দ্রাবিড় ব্যস্ত এশিয়া ইয়ুথ কাপ গামী দলকে নিয়ে। বেঙ্গালুরুতে জোর কদমে চলছে অনুশীলন। সেখান থেকেই দল যাবে মালয়েশিয়ায় খেলতে। এখন বিসিসিআই কর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইয়ো ইয়ো টেস্ট বাধ্যতামূলক। সিনিয়র থেকে জুনিয়র, যে স্তরেই হোক না কেন। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার জন্য ইয়ো ইয়ো টেস্ট করেই সিনিয়র দল নির্বাচন করা হয়। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় দল থেকে বাদ পড়ে যান সুরেশ রায়না ও যুবরাজ সিং। অথচ ৩৮ বছর বয়সে ইয়ো ইয়ো টেস্ট পাস করে যান আশিস নেহরা। সিনিয়র দলের ক্ষেত্রে যেখানে এই ফিটনেস টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেখানে কেন বাদ পড়বে জুনিয়রদের ক্ষেত্রে? আর এখানেই বিরোধ বেঁধেছে দ্রাবিড়ের সঙ্গে। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এই বয়সের ক্রিকেটারদের কাছে ইয়ো ইয়ো টেস্টের কোনও প্রয়োজন নেই। তাদের পারফরম্যান্স যাচাই করাই হল আসল। অর্থাৎ বোলারদের ক্ষেত্রে বোলিং কেমন হচ্ছে তা দেখা এবং ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে তাঁরা কেমনভাবে ব্যাটে নিজেদের মেলে ধরছে তা যাচাই করা। দ্রাবিড়ের সোজা কথা, এই বয়সে ক্রিকেটারদের ফিটনেস দেখার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং ক্রিকেটীয় স্কিল বাড়ানোই হল আসল। তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দলকে ইয়ো ইয়ো টেস্টে বসার দরকার নেই। এই টেস্ট ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়।
[এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে রুপো নিশ্চিত মেরি কমের]
কিন্তু বোর্ডকর্তারা তা মানতে নারাজ। যদিও দ্রাবিড়ের এই মতামতকে কোনও ক্রিকেট কর্তা প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে চাইছেন না। এমন কী জুনিয়র দলের কোচের বিরুদ্ধে কেউ কোন বিরূপ মন্তব্যও করেননি। তবে বোর্ডের সিইও রাহুল জোহরি জানিয়ে দিয়েছেন, এক্ষেত্রে তাঁরা অসহায়। “ব্যাপারটা বোর্ডকর্তারা বসে ঠিক করেননি। করেছেন অধিনায়ক, কোচ ও প্রধান নির্বাচকরা বসে। শুধু তাই নয়, তাঁরা আবার অন্যান্য নির্বাচকদের ডেকে নিয়েছিলেন। ডাকা হয়েছিল সাপোর্ট স্টাফদেরও। তাঁরাই বসে ব্যাপারটা ঠিক করেন। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই। সকলে বসে যা ঠিক হয়েছিল তাই আমরা মেনে চলতে বাধ্য। পরিষ্কার সেই সভায় বোঝানো হয়েছিল, যারা এই ইয়ো ইয়ো টেস্টে পাস করতে পারবে না তাদের দলে নেওয়ার প্রশ্নই নেই।” এর বেশি কিছু বলতে চাননি রাহুল জোহরি। এখন দেখার দ্রাবিড়ের গোঁয়ার্তুমিকে বোর্ড মেনে নেয় কি না। যদি মেনে নেয় তাহলে রায়না-যুবরাজের সিনিয়র দল থেকে বাতিল করা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আবার না মেনে নিলে দ্রাবিড় কি সরে দাঁড়াবেন? উঠছে সেই প্রশ্নও।
The post এবার বোর্ডের সঙ্গে সংঘাতের পথে রাহুল দ্রাবিড়! appeared first on Sangbad Pratidin.
