বাংলা: ৩২৮ ও ৯৯
জম্মু ও কাশ্মীর: ৩০৩ ও ১২৬/৪
৬ উইকেটে জয়ী জম্মু ও কাশ্মীর
আরও একটা মরশুম। আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ। নকআউট পর্ব এলে ঠিক কী হয় বাংলার ক্রিকেটারদের? কোনও উত্তর নেই। তাই ফের হতাশাই সম্বল বাংলার ক্রিকেটভক্তদের। জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে হেরে রনজি ট্রফির (Ranji Trophy) সেমিফাইনাল থেকে বিদায় অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। তৃতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত ম্যাচ ছিল বাংলার পকেটে। মহম্মদ শামির ৮ উইকেটের সুবাদে মনে হচ্ছিল, ম্যাচ জয় সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলার ইনিংস। ১২৬ রানের লক্ষ্য মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে তুলে নেন আকিব নবিরা।
গ্রুপ পর্বে দুরন্ত পারফরম্যান্স। কিন্তু নকআউটে গেলেই কাগুজে বাঘ। গত কয়েকবছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে এটাই বাংলার ছবি। রনজি, বিজয় হাজারে, সৈয়দ মুস্তাক আলি-সমস্ত টুর্নামেন্টের শুরুতেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আশা জাগায় বাংলা। কিন্তু নকআউট পর্বে স্বপ্নের সলিল সমাধি। বাংলার ক্রিকেট সমর্থকদের প্রত্যাশার কথা বাদই দেওয়া যাক। অন্তত মহম্মদ শামির পারফরম্যান্সকে 'সম্মান' জানাতে ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল বাংলার।
উইকেট তুলে উচ্ছ্বাস শামির। ছবি: অমিত মৌলিক
কল্যাণীতে প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের ৩২৮ রানের জবাবে আকিব নবিদের ইনিংস শেষ হয় ৩০২ রানে। নেহাত এখনও শামি ভরসা। নাহলে প্রথম ইনিংসেই লিড নিয়ে নিত জম্মু ও কাশ্মীর। ৯০ রানে ৮ উইকেট পকেটে ভরেন শামি। চলতি মরশুমে তিন ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির মোট উইকেট সংখ্যা ৬৭। যেন বারবার করে বুঝিয়ে দিলেন ‘নট ফিনিশড!’ কিন্তু বাকি পেসাররা সেভাবে সঙ্গ দিলেন কোথায়?
জম্মু-কাশ্মীরের কাছে হেরে রনজি থেকে বিদায় বাংলার। ছবি: অমিত মৌলিক
তারকা বোলারদের পারফরম্যান্স লজ্জা পাবে ব্যাটারদের দেখলে। হাতে লিড রয়েছে। ঘরের মাঠ। শামির আগুনে পারফরম্যান্স। সেসব সত্ত্বেও মাত্র ৯৯ রানে অলআউট গোটা দল। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ করলেন ৫ রান। নকআউট ম্যাচে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে না পারলে দেশের জার্সিতে খেলবেন কী করে? প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেটমহলে। সুদীপ ঘরামি টানা ভালো খেলছেন, এই ইনিংসে ব্যর্থ। কিন্তু বাকিরা? কেউ ৮, কেউ, ১০, তো কেউ শূন্য। সর্বোচ্চ ২৪, শাহবাজের আহমেদের। শেষমেশ জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য লক্ষ্য দাঁড়াল ১২৬। তাতেও শামির ১১ রানের অবদান ছিল। গোটা ম্যাচে কাশ্মীরি পেসার আকিব নবি তুললেন ৯ উইকেট।
বাংলার উইকেট তুলে উচ্ছ্বাস জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নবির। ছবি: অমিত মৌলিক
তৃতীয় দিনের শেষে জম্মু ও কাশ্মীরের রান ছিল ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩। বুধ-সকালে শুভম পুন্ডিরকে আউট করে অসম্ভবের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শামি। তারপর যে কী সেই! বংশজ শর্মা করে গেল ৪৩। সঙ্গ দিলেন আবদুল সামাদ (৩০)। আকাশ দীপের ৩ উইকেট কোনও কাজে লাগল না। ৬ উইকেটে জিতে প্রথমবার রনজির ফাইনালে গেল জম্মু ও কাশ্মীর।
