আয়ারল্যান্ডের কাছে চুনকামের পরেও অভিষেক হয়নি বৈভব সূর্যবংশীর। বিস্ময় প্রতিভাকে বাইরে রেখে প্রথম একাদশ সাজিয়েছিল ভারতীয় দল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। প্রশ্ন উঠছে, কেন বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হচ্ছে দুরন্ত ফর্মে থাকা বৈভবকে? বিস্ময় কিশোরকে বাদ দেওয়ায় নির্বাচকদের তোপ শাস্ত্রী-গাভাসকরদের।
‘দুর্বল’ আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভাকে খেলানো হয়নি। অনেকের মতে, তাকে খেলালে ভারত সিরিজ জিততে পারত। কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়সের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংও পোস্ট করেছেন বৈভবের সমর্থনে। শচীন তেণ্ডুলকর, সুনীল গাভাসকরের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মত, ‘বৈভব ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন মুখ হওয়ার জন্য তৈরি।’ কেবল ভারত নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে বৈভবের প্রতিভার ঝলক দেখতে চাইছে গোটা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
বৈভব সূর্যবংশী। ছবি সংগৃহীত।
গাভাসকর বলেন, “ও যখনই সুযোগ পাবে, তখনই ওর উপর চাপটা আরও বেশি থাকবে। তবে ১৫ বছর বয়সে চাপ নিয়ে এতটা ভাবার কথা নয়। ও জানে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেলে শুরু থেকেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।” তবে এই অপেক্ষাকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন সানি। তাঁর কথায়, “এই ভারতীয় দলে অসাধারণ সব ক্রিকেটার রয়েছে। তাদের সঙ্গে থেকে শেখার সুযোগ পাওয়াটাই ওর কাছে বিরাট প্রাপ্তি। আমি নিশ্চিত, এই সময়টা ও খুব ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে।”
অন্যদিকে রবি শাস্ত্রী বলছেন, "আরে, ওর তো আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা উচিত ছিল। ম্যাচের পিচ ছিল খুবই স্লো। মাঠটা এত ছোট ছিল যে, ওদেরকে পিটিয়ে ভর্তা করে দিত। ওদের প্যান্ট খুলে ফেলত। আমার মতে, ওকে ওই ম্যাচে খেলানো উচিত ছিল। এখন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুযোগ পাবে কি না, জানি না। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে সুযোগ দিতে হবে। আইপিএলে ও সব ধরনের বোলারকে দাপটের সঙ্গে খেলেছে। এমন কোনও ফাস্ট বোলার নেই, যাকে ও মারেনি। অথচ তোমরা ওকে শুধু বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছ!"
কিন্তু গম্ভীরের টিম ম্যানেজমেন্ট ভাবছে অন্যরকম। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নামার আগেই শ্রেয়স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বৈভবের জায়গা রিজার্ভ বেঞ্চেই। তিনি জানিয়েছিলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের হাত বাঁধা। এটা দলের নিজস্ব বিষয়। যারা ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করেছিল, তাঁরা অপরিহার্য ছিল। তাই, তাঁদের পাশে থাকাটা জরুরি।” যদিও ঘটনাচক্রে বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসন-ঈশান কিষানরা তো লাগাতার ব্যর্থ হচ্ছেন। সেটা সম্ভবত গুরুত্ব দিচ্ছেন না ভারতীয় দলের নতুন অধিনায়ক।
