সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হিংসার জেরে ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি হল শ্রীলঙ্কায়। ঘটনাস্থল শ্রীলঙ্কার বর্ধিষ্ণু শহর ক্যান্ডি। মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আনাগোনা রয়েছে এই শহরে। কয়েকদিন আগে সংঘর্ষের জেরে আহত হন এক বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয়েছে সেই ব্যক্তির। এরপরেই ফের আগুনে ঘি পড়ে। পালটা হিসেবে স্থানীয় মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ধর্মীয় হিংসা নিয়্ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বুঝতে পেরে ক্যান্ডি শহরে কারফিউ জারি করে শ্রীলঙ্কার সরকার। এরপরেও একের পর এক হিংসার ঘটনা বাড়তে থাকে। শেষপর্যন্ত দাঙ্গাকারীদের পাকড়াও করতে সোমবার গোটা দেশেই জরুরি অবস্থা জারি করল সরকার।
[জাফর ইকবালের উপর হামলার তদন্তে নয়া মোড়, আত্মসমর্পণ অভিযুক্তর মা-বাবার]
উল্লেখ্য, ধর্মীয় হিংসাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই চা-বাগানের শহর ক্যান্ডি অস্থির হয়ে রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির মৃ্ত্যুর জন্য স্থানীয় মুসলিমদের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে। যদিও প্রশাসন তা মানতে নারাজ। কেন না গোটা শ্রীলঙ্কার ৭৫ শতাংশ বাসিন্দা সিংহলি বৌদ্ধ। ১৫ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বাকি ১০ শতাংশ মুসলিম। ইতিমধ্যেই হিংসা ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির জন্য উঠেপড়ে লেগেছে সরকার।
বেশ কিছু সংগঠনের অভিযোগ, দেশ জুড়ে চলতে থাকা লাগাতার হিংসার মূল কারিগর স্থানীয় বৌদ্ধদের সংগঠন বদু বালা মুসলিম ও বৌদ্ধ সংগঠন গুলির মধ্যে চলতে থাকা সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতেই এই সংঘর্ষের জেরে ধ্বংস হয়েছে ক্যান্ডি শহরের বেশকিছু মসজিদ ও দোকানপাট। বাকিদের অভিযোগ, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জোর করে ধর্মান্তকরণের জন্যই এই অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে মুসলিমরা। যাইহোক, ২০১৪ থেকে একের পর এক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটছে এই দেশটিতে। হিংসার জেরে এখন জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। এদিকে এই সময়ই ত্রিদেশীয় টি-২০ ক্রিকেট সিরিজ খেলতে সেখানে পৌঁছেছে টিম ইন্ডিয়া। সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে সিরিজ। ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা এই সিরিজে অংশ নেবেন। জরুরি অবস্থার প্রভাব পড়তে পারে এই টুর্নামেন্টেও, এমনই মনে করছেন অনেকে।
[সাপ ও বাঁদরের দল গিলে নিল লক্ষ লক্ষ ডলার! আজব কাণ্ড নাইজেরিয়ায়]
The post শ্রীলঙ্কায় জারি জরুরি অবস্থা, ত্রিদেশীয় সিরিজ ঘিরে অনিশ্চয়তা appeared first on Sangbad Pratidin.
