এক অঙ্গে বহু রূপ। এই তিনি হাসছেন, এই তিনি হাসাচ্ছেন। আবার কখনও তিনি রাগে অগ্নিশর্মা। তো পরে গিয়ে ক্ষমাও চাইছেন। অর্শদীপ সিং সব পারেন। বোলিংয়ে আগুনে গতিতে যেমন বিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলেন, তেমনই টিম ইন্ডিয়ার এন্টারটেইনারও অর্শদীপ। কোচ গৌতম গম্ভীর, সঞ্জু স্যামসন হোক কিংবা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল, অর্শদীপের হাত থেকে কারও রেহাই নেই।
নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ফের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। তারপর অর্শদীপের একাধিক ভিডিও ভাইরাল। এক এক করে বলা যাক। প্রথমে গৌতম গম্ভীর। ভারতের কোচ খুব একটা হাসেন না বলে দুর্নাম আছে। বিশ্বকাপ জিতেও কি তিনি গুরুগম্ভীর থাকবেন? অর্শদীপ থাকতে সেটা হতেই পারে না। সোজা গম্ভীরকে নিয়ে পাঞ্জাবিতে বললেন, "পাজি, মাঝেমধ্যে হাসতেও তো পারেন।" বুঝুন! এরপর আর হাসি চাপতে পারেননি গম্ভীর। তিনিও বলেন, 'সিং ইজ কিং।'
তারপর সঞ্জু স্যামসন। টানা তিন ম্যাচে বড় রান পেয়েছেন। একসময় দলে নিয়মিত ছিলেন না, সেখান থেকে বিশ্বকাপের সেরা প্লেয়ার। সঞ্জু নিজেকে প্রমাণ করেছেন, দলও তাঁর উপর ভরসা রেখেছে। সঞ্জুর কাঁধে হাত রেখে অর্শদীপ বলে গেলেন, "কী, জাস্টিস পেলে তো?" আসলে সঞ্জুকে যখন দলের বাইরে থাকতে হত, তখন অনেকে বলতেন, তাঁর প্রতিভার যোগ্য সম্মান পাচ্ছেন না। সেটা নিয়েও মজা করতে ছাড়লেন না অর্শদীপ। তারপর ঈশান কিষানের সঙ্গে রিল, "এক বিহারী, সব পে ভারী।"
এর মধ্যে ম্যাচের সময় একটি গন্ডগোল পাকান ভারতীয় পেসার। ম্যাচের বয়স তখন ১১তম ওভার। ম্যাচের রাশ পুরোপুরি ভারতের হাতে। একাদশতম ওভারে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা দু’টো ছক্কা হাঁকাতেই রেগে যান অর্শদীপ। সোজা বল ছুড়ে দেন ড্যারিল মিচেলের শরীর লক্ষ্য করে। যা শুধু অখেলোয়াড়োচিত আচরণ নয়, শাস্তিযোগ্য কাজও বটে। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ম্যাচের পর দেখা যায় মিচেলের সঙ্গে কথা বলছেন অর্শদীপ। কী কথা হল? অর্শদীপ পরে বলেন, "ক্ষমা চাইতে গিয়েছিলাম।"
