ইডেন গার্ডেন্স। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। অথচ গোটা স্টেডিয়াম কার্যত জনশূন্য। সেই খাঁ খাঁ মাঠেই শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ডের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে টস জিতে শুরুতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিল স্কটল্যান্ড।
বিশ্বকাপের ম্যাচ চলছে অথচ দর্শকদের ভিড় নেই, কোনও উদ্দীপনা নেই। যতই ভারত না খেলুক, ক্রীড়াপ্রেমী এই শহরে এ ছবি শুধু অনভিপ্রেত নয়, অপ্রত্যাশিতও। সিএবিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল প্রথম ম্যাচের জন্য হাজার তিনেকের কাছাকাছি টিকিট বিক্রি হয়েছে। পরের ম্যাচগুলির পরিস্থিতি আরও খারাপ। হয়তো ছবিটা এমন হত না। যদি এই ম্যাচ আসলে যাঁদের খেলার কথা ছিল সেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট না করত।
অতীতে এই শহরে বাংলাদেশের ম্যাচে হাজার হাজার দর্শকের ভিড় ক্রিকেটদুনিয়া দেখেছে। ওপার থেকে যেমন দর্শক এসেছেন, এপারের বহু মানুষও ওপার বাংলার বাঙালিদের সমর্থন করেছে। সেটা ভেবেই হয়তো আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলি ইডেনে রেখেছিল। কিন্তু বিধি বাম। স্রেফ ইগোর কারণে মেগা টুর্নামেন্ট বয়কট করে সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে দিল বিসিবি। যদিও এতে বিশ্বকাপ যতটা না জৌলুস হারিয়েছে, তার চেয়ে বেশি জৌলুস হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। কারণ বাংলাদেশের বদলে যে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পাচ্ছে তাদের দর্শক সংখ্যা ততটা বেশি নয় ঠিকই কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তারা কম কিছু নয়। অন্তত শেষ ৩ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের নিরিখে বাংলাদেশকে টেক্কাই দিয়েছে স্কটিশরা। শেষ তিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যেখানে মোটে ৭ ম্যাচ জিতেছে, সেখানে স্কটিশরা জিতেছে ৬ ম্যাচ। এর মধ্যে আবার ইংল্যান্ড, আজকের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে জয়ও রয়েছে।
অতীতের সেই গৌরবের ইতিহাসই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে স্কটল্যান্ডকে। এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্কটিশ অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। তিনি বলছিলেন, "হঠাৎ এই সুযোগ এসে যাওয়াটা চ্যালেঞ্জিং বটে। তবে আমরা প্রস্তুত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।" চার বছর আগে হোবার্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর স্মৃতিই যে তাঁদের অনুপ্রেরণা, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বেরিংটন। অবশ্য ইডেনে ভালো স্মৃতি ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও আছে। ১০ বছর আগে এই মাঠেই বিশ্বসেরা খেতাব উঠেছিল তাঁদের মাথায়। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।
