shono
Advertisement
Vaibhav Suryavanshi

'মনেই হয়েছিল, আজকের দিনটা শুধু আমার', ভারতকে বিশ্বসেরা করে তৃপ্ত বৈভব

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে বৈভব বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করতেই তাঁর আবির্ভাব।
Published By: Sulaya SinghaPosted: 12:45 PM Feb 07, 2026Updated: 12:54 PM Feb 07, 2026

বৈভব সূর্যবংশী নামটার সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বের চেনাশোনা নতুন নয়। যবে থেকে এই কিশোর ব্যাটার আইপিএলের গ্রহে পা রেখেছেন, ব্যাট করেছেন, গড়েছেন একটার পর একটা রেকর্ড, তবে থেকে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা- মঞ্চ যাই হোক, তারকা বৈভবকে নিয়ে আলোচনা চলেই।

Advertisement

যদিও একটা বিষয় যেন কলঙ্কের মতোই লেগে ছিল বৈভবের কেরিয়ারে। বড় মঞ্চে কিছুটা নিষ্প্রভই থেকে যেতেন ভারতের এই বিস্ময়-প্রতিভা। কয়েক মাস আগে এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তান ম্যাচে তাঁর ব্যর্থতা ও দলের হারের যুগপৎ ধাক্কার পর সেই গুঞ্জন যেন আরও জোরালো হয়েছিল। কিন্তু সেই গুঞ্জন দীর্ঘস্থায়ী হল না। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে বৈভব বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করতেই তাঁর আবির্ভাব। একটার পর একটা রেকর্ড– অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ রান। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম সেঞ্চুরি। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয়। অনূর্ধ্ব ১৯ ওয়ান ডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা। প্রথম প্লেয়ার হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ এবং তার ফাইনাল- দু’য়েই সেরার পুরস্কার। আরও রেকর্ড চাই?

ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেললেন বৈভব। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাত্র ৫৫ বলে। প্রতিযোগিতায় একটা-দু’টো ম্যাচে রান পেয়েছেন বটে। তবে যে ‘ড্যাডি হান্ড্রেড’ বৈভবের পরিচিতি তৈরি করেছে, তার দেখা মিলছিল না। অবশেষে তা দেখা গেল ফাইনালে। বৈভব যেন টের পেয়েছিলেন, শুক্র-দুপুরের নায়ক তিনিই হবেন। ম্যাচ শেষে বলছিলেন, “মনেই হয়েছিল, আজকের দিনটা শুধু আমার। মনের ভেতর যেন টের পেয়েছিলাম। এতদিন যেসব ইনিংস খেলেছি, তাতে আমি নিজে খুশি হতে পারিনি। কিন্তু আজ ব্যাটে যেভাবে বল লাগছিল, সেটা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তাতে মনেই হয়েছিল, আজকে আমার দিন।”

ম্যাচ শেষে বলছিলেন, “মনেই হয়েছিল, আজকের দিনটা শুধু আমার। মনের ভেতর যেন টের পেয়েছিলাম। এতদিন যেসব ইনিংস খেলেছি, তাতে আমি নিজে খুশি হতে পারিনি। কিন্তু আজ ব্যাটে যেভাবে বল লাগছিল, সেটা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তাতে মনেই হয়েছিল, আজকে আমার দিন।”

এদিন একটা সময় সঙ্গে ব্যাট করা অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে সেঞ্চুরির জন্য দেখেশুনে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন বৈভবকে। ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক বলছিলেন, “আমাদেরও মনে হয়েছিল, আজকের দিনটা বৈভবের। চেয়েছিলাম সত্যিই যেন ভালো একটা ইনিংস খেলতে পারে ও। তাই সেঞ্চুরির সময় ওকে বলি, একটু সাবধানে খেল। সেকথা পাত্তাই দেয়নি ও। নিজের মতো চালিয়ে খেলতে থাকে।” সতীর্থের এমন মধুর ‘অভিযোগ’ শুনে হাসলেন বৈভব। তারপর বললেন, “আমার লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব বেশি রান করা। তাতে যেমন আমার রান বাড়বে, তেমনি দলের স্কোরটাও ভালো হবে।” এবার বৈভবের লক্ষ্য আরও বড়। যে প্রসঙ্গে তিনি শোনালেন, “আমি জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে চাই। পরতে চাই সিনিয়র দলের জার্সি। সেজন্য যতদূর যেতে হবে, আমি যাব। যা করতে হয়, করব। কিন্তু জাতীয় দলের অংশ হবই!”

বৈভবের ইনিংসে মুগ্ধ ক্যারিবিয়ান তারকা ইয়ান বিশপও। এদিন ফাইনাল শেষে বলছিলেন, “অসাধারণ, অনবদ্য। আমার দেখা অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেরা ইনিংস। ও আইপিএল খেলেছে। তারপরও বলব, এটা ওর কাছে বড় মঞ্চ। তারকাসুলভ কোনও অহং ওর মধ্যে দেখিনি। ম্যাচ হোক বা অনুশীলন, কখনও গা-ছাড়া ভাব দেখায়নি। বড় প্লেয়ার, আইপিএল খেলার কোনও ছাপ ওর আচরণে পাইনি। আর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে কী দুর্দান্ত দু’টো ইনিংসই না খেলল। বুঝিয়ে দিল বৈভব, ও-ই ভবিষ্যৎ।”

সত্যিই। এদিন ভবিষ্যতের ঝলকই যেন দেখিয়ে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement