shono
Advertisement
T20 World Cup

সহজ ম্যাচ কঠিন করার পুরনো অভ্যাস! বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কোনও মতে জয় পাকিস্তানের

নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে খেললে কী হত? তাই ম্যাচ বয়কট নিয়ে কিছুটা স্বস্তিই পাবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
Published By: Arpan DasPosted: 02:27 PM Feb 07, 2026Updated: 03:45 PM Feb 07, 2026

নেদারল্যান্ডস: ১৪৭/১০ (বাস ডে লিড ৩০, সলমন মির্জা ২৪/৩)
পাকিস্তান: ১৪৮/৭ (সাহিবজাদা ৪৭, ফাহিম ২৯, মিকেরেন ২০/২)
পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।

Advertisement

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জেতার অভ্যাস বদলাল না পাকিস্তানের। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পাকিস্তান জিতল ঠিকই। কিন্তু পাক ভক্তদের হৃদপিণ্ড কার্যত গলায় তুলে। সহজ লক্ষ্য ধাওয়া করতে গিয়েও বারবার হোঁচট খেল। শেষ পর্যন্ত ১৪৮ রান তাড়া করে জিতল মাত্র ৩ উইকেটে। শেষের দিকে ডাচরা 'নার্ভ ফেল' না করলে অঘটন ঘটতেই পারত। সেই সঙ্গে প্রশ্ন, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে কী হত? তাই হয়তো ম্যাচ বয়কট নিয়ে কিছুটা স্বস্তিই পাবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ডাচরা শুরু থেকেই সাহসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন। ম্যাক্স ও'দুদ রান না পেলেও মাইকেল লেভিট রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাই বজায় রাখেন বাস ডে লিড, স্কট এডওয়ার্ডসরা। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মহম্মদ নওয়াজদের নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করছিলেন ডাচরা। তবে তাঁদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াল অভিজ্ঞতার অভাব। কীভাবে ভালো শুরুকে বড় রানে পর্যবসিত করতে হয়, সেটা বুঝতে উঠতে পারলেন না। বরং স্পিন অস্ত্রে নেদারল্যান্ডসকে ঘায়েল করে পাকিস্তান। আবরার আহমেদ (২৩ রানে ২ উইকেট) ও সাইম আয়ুব (৭ রানে ২ উইকেট) মিলে নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানের মধ্যে বেঁধে ফেলে। ভালো ফিল্ডিংও করল তারা। বিশেষ করে বাউন্ডারি লাইনে বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদিরা পালা করে যে ক্যাচটা ধরলেন, তা এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ক্যাচের তালিকায় থাকবে। 

একদমই কঠিন লক্ষ্য নয়। পিচেও কোনও 'জুজু' নেই। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিপক্ষের নাম নেদারল্যান্ডস। তারা আর কী করতে পারে? কেউ যদি এরকম ভেবে থাকেন, তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে ভুল প্রমাণ করলেন ডাচ বোলাররা। যাকে নেতৃত্ব দিলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত- আরিয়ান দত্ত। শুরুটা ভালোই করেছিল পাকিস্তান। সাহিবজাদা ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রান করেন। চারটি চার ও দু'টি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। সাইম আয়ুবও ২৪ রান করে যান। তখনও মনে হয়নি পাকিস্তানের জন্য অশনি সংকেত থাকতে পারে। কিন্তু সাইমকে আরিয়ান ফেরাতেই শুরু ম্যাজিক! তারপর সলমনকেও ফেরালেন তিনি। হঠাৎ একাধিক উইকেট পড়তেই যেন পা কাঁপা শুরু হয় পাক ব্যাটারদের। বাবর আজম স্বভাবসিদ্ধ 'টেস্ট ক্রিকেট' খেলে আউট হলেন। এরপর একে-একে বিদায় নিলেন উসমান খান, শাদাব খান, মহম্মদ নওয়াজ।

শেষের দিকে ডাচরা 'নার্ভ ফেল' না করলে অঘটন ঘটতেই পারত। সেই সঙ্গে প্রশ্ন, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে কী হত? তাই হয়তো ম্যাচ বয়কট নিয়ে কিছুটা স্বস্তিই পাবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

লোগান ভ্যান বিক, পল ভ্যান মিকেরেনদের দাপটে তখন থরহরি কম্প দশা পাকিস্তানের! বিশ্বকাপ শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যেই কি বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল পাক বাহিনীর? তারা যে সেখান থেকে জিতে গেল তার জন্য দায়ী তিনটি ফ্যাক্টর। এক, ফাহিম আশরাফ। ১১ বলে ২৯ রান করে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন। দুই, ভ্যান বিকের ১৯তম ওভারে নিলেন ১৯ রান। আরও একটা কারণে ম্যাচের ভাগ্য বদলাল ওই ওভারে। ফাহিমের সহজ ক্যাচ মিস করলেন ও'দুদ। ম্যাচও মিস হল সেখানেই। বাকি কাজ পরের ওভারের শুরুতেই শেষ করে দিলেন ফাহিম। পাকিস্তান ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতল ঠিকই। তবে নিজেদের জন্য অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement