পাকিস্তান: ১৬৪-৯ (ফারহান ৬৩, শাদাব খান ২৫)
ইংল্যান্ড: ১৬৬-৮ (ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮)
ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী।
টুর্নামেন্টের শুরুটা বিশ্রী হয়েছিল। নেপালের বিরুদ্ধে কোনওক্রমে জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হার। স্কটল্যান্ড, ইটালির বিরুদ্ধেও কষ্টের জয়। একটা সময় এই ইংল্যান্ডকে কেউ ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেনি। সেই ইংল্যান্ডই প্রথম দল হিসাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। সৌজন্যে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে কার্যত একার হাতে দলকে সেমিতে তুলে নিলেন তিনি। অন্যদিকে এই হারের ফলে বিশ্বকাপের সেমির দৌড়ে অনেকটা পিছিয়ে গেল পাকিস্তান। তাঁদের জন্য সেমির রাস্তা কার্যত বন্ধ।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরুটা মঙ্গলবারও ভালো হয়নি পাক দলের। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান একদিকে ইনিংসের হাল ধরলেও অন্য প্রান্তে পর পর সাইম আয়ুব, সলমন আলি আঘার উইকেট খুইয়ে পাওয়ার প্লে-র অন্দরেই চাপে পড়ে যায় পাক দল। সেখান থেকে ফারহান প্রথমে বাবর এবং পরে ফখর জামানের সঙ্গে জুটি বেঁধে পাকিস্তানকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তিনি। কিন্তু ফারহান ৬৩ রানে আউট হওয়ার পর ফের মুখ থুবড়ে পড়ে পাক দল। একটা সময় যে রান ১৭০-১৭৫ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে মনে করা হচ্ছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত আটকে গেল ৯ উইকেটে ১৬৪ রানে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বিশ্রী হয় ইংল্যান্ডেরও। মাত্র ১৭ রানে দুই উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল তাঁরা। কিন্তু সেখান থেকে কার্যত একার হাতে ম্যাচের হাল ধরেন ইংরেজ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। একদিকে যখন একের পর এক উইকেট পড়ছে, তখন তিনি কার্যত একাই ইংল্যান্ডকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। টপ অর্ডারের আর কোনও ব্যাটার যেখানে দুই সংখ্যাও পেরোতে পারলেন না, সেখানে ব্রুক একাই ৫১ বলে অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি করে গেলেন। এই প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হাঁকালেন কোনও অধিনায়ক। শেষ দিকে যেটুকু কাজ বাকি ছিল সেটা করে দিলেন উইল জ্যাকস। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জিতল ২ উইকেটে।
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে নিশ্চিত হয়ে গেল ইংল্যান্ড। এই নিয়ে পরপর পাঁচ বিশ্বকাপের সেমিতে ইংল্যান্ড। যা কিনা রেকর্ড। অন্যদিকে ২ ম্যাচ এক পয়েন্ট নিয়ে চাপে পাকিস্তান। সেমিতে যেতে হলে তাঁদের যেমন নিজেদের শেষ ম্যাচ জিততে হবে, তেমনই তাকিয়ে থাকতে হবে নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে।
