আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম নবরুপে আত্মপ্রকাশ করা ইস্তক ভারতের যত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সেখানেই আয়োজিত হচ্ছে। তা সে ভাগ্য ভারতের সহায় হোক বা না হোক। ওয়াংখেড়ে, ইডেন গার্ডেন্সের মতো ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম যেন রাতারাতি কৌলিন্য হারিয়েছে। যেভাবে ২০২৫ আইপিএলের ফাইনাল রাতারাতি ইডেন গার্ডেন্স (Eden Gardens) থেকে সরিয়ে আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও ক্ষোভ রয়েছে বঙ্গ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। এবার বিশ্বকাপে (T20 World Cup) আবারও সেই বঞ্চনার মুখে ইডেন।
আইসিসির পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ইডেনে আগামী ৪ মার্চের সেমিফাইনাল হওয়ার কথা। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথে আইসিসি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে ইডেনের সেমিফাইনাল পাওয়াটা রীতিমতো অনিশ্চিত। ‘ইএসপিএন ক্রিকইনফো’র দাবি অনুযায়ী, আইসিসি সম্প্রচারকারী সংস্থাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল কলকাতায় হবেই সেটা নিশ্চিত নয়। প্রথম সেমিফাইনাল কলম্বো বা কলকাতার মধ্যে কোথাও একটা হবে। প্রথমে ঠিক ছিল পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে ওঠে তা হলে সেটি হবে কলম্বোতে। পাকিস্তান না উঠলে হবে কলকাতায়। কিন্তু যদি পাকিস্তানের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে ওঠে এবং তারা ভারত ছাড়া অন্য কোনও দলের মুখোমুখি হয়, তা হলেও প্রথম সেমিফাইনাল ইডেনের বদলে কলম্বোতে হবে।”
ইডেন গার্ডেন্স। নিজস্ব চিত্র।
ফলে যা পরিস্থিতি দাঁড়াচ্ছে, সেমিফাইনালে বি গ্রুপ থেকে যদি পাকিস্তান ওঠে তাহলে তারা খেলবে কলম্বোতে। ভারত উঠলে সেই ম্যাচ আগে থেকেই ওয়াংখেড়েতে হওয়া নিশ্চিত। ফলে ইডেন কোনও ম্যাচ পাবে না। যদি শ্রীলঙ্কা ওঠে এবং তারা ভারত ছাড়া অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল খেলে তাহলেও ইডেনে খেলা হবে না। সেই ম্যাচও হবে কলম্বোতে। পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা দু'দলই যদি সেমিতে ওঠে তাহলেও ইডেনে ম্যাচ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। একমাত্র যদি শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও দলই সেমিফাইনালে না বা শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলে আর পাকিস্তান না ওঠে, তবেই শেষ চারের ম্যাচ পাবে ইডেন। আগে যেমন শুধু পাকিস্তান উঠলে সেমিফাইনাল ইডেন থেকে সরে যেত, এখন আর সেই শর্ত আরও জটিল হচ্ছে। এ বার যোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কাও।
আসলে এ সবের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের গোঁ। পাকিস্তান আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে তারা খেলতে আসবে না। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে সুপার এইট বা সেমিফাইনাল-ফাইনাল, পাকিস্তান যতগুলি ম্যাচ খেলবে, সব ম্যাচের আয়োজন করতে হবে শ্রীলঙ্কায়। তাছাড়া আয়োজক হিসাবে শ্রীলঙ্কাও নিজেদের সব ম্যাচ দেশের মাটিতে খেলতে চেয়েছে। সেটা নিশ্চিত করতেই ফের বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে ইডেনকে।
