বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্প্রচার করা হচ্ছিল, ভারত ৩০০ তুলবে! আবার বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা প্রকট হতেই তা নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালের দিন মনে হচ্ছিল, হয়তো সেই বিজ্ঞাপনটা এতদিনে সার্থক হতে পারে। অভিষেক-সঞ্জু-ঈশানরা যেভাবে ঝড় তুলেছিলেন, তাতে অন্তত ৩০০-র কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। আবার মাঝে নিউজিল্যান্ড এক ওভারে তিন উইকেট তুলে দারুণ কামব্যাক করেছিল। কিন্তু শেষ ওভারে যে শিবম দুবে ২৪ রান নেবেন, তা চেনা প্রশ্নপত্রে ছিল না। দুবের মারকাটারি ইনিংসে সেমিফাইনালের রান টপকে ফাইনালে ভারত করল ২৫৫ রান। তবে সেমিফাইনালে রানের ফোয়ারা দেখার পর এখন দেশের ক্রিকেটভক্তদের প্রশ্ন তো থাকছেই, এই রানটা যথেষ্ট তো?
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যেন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হল, কে বেশি রান করবেন? কে কত বেশি ছক্কা হাঁকাবেন? সঞ্জু স্যামসন আগুনে ফর্মে আছেন। এদিনও ব্যাটে আগুন ঝরিয়ে গেলেন। আর ঠিক সময় বুঝে রানে ফিরলেন অভিষেক শর্মা। তাঁকে নিয়ে যত সমালোচনা হয়েছে, ঠিক তত যেন রাগ বেড়েছে তাঁর মধ্যে। বিশ্বকাপ ফাইনালে সেটা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিলেন। রাগে অগ্নি'শর্মা' হয়ে একের পর এক বল যেন সবরমতীর পারে ফেললেন। তাঁর দাপট শেষ হওয়ার পর এলেন ঈশান কিষান।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যেন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হল, কে বেশি রান করবেন? কে কত বেশি ছক্কা হাঁকাবেন? সঞ্জু স্যামসন আগুনে ফর্মে আছেন। এদিনও ব্যাটে আগুন ঝরিয়ে গেলেন। আর ঠিক সময় বুঝে রানে ফিরলেন অভিষেক শর্মা। তাঁকে নিয়ে যত সমালোচনা হয়েছে, ঠিক তত যেন রাগ বেড়েছে তাঁর মধ্যে। বিশ্বকাপ ফাইনালে সেটা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিলেন।
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের 'কলঙ্ক' কম নয়। এই স্টেডিয়ামে ওয়ানডে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে রোহিত-বিরাটদের। ফলে চিন্তা-উদ্বেগ তো থাকেই। সেই একই রকম ১ লক্ষ ৩২ হাজার ভরা স্টেডিয়াম, সেরকমই এক ফাইনাল, টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং। কিন্তু এবার স্ক্রিপ্ট অন্যরকম লিখলেন সঞ্জু-অভিষেকরা। প্রথম দু'টো ওভার থেকে মনে হয়নি কী ঝড় উঠতে চলেছে! বিশেষ করে অভিষেককে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলই। বিশ্বকাপজুড়ে রান পাননি। তিনি ব্যাট করতে এলেই বিপক্ষ অধিনায়ক অফ স্পিনার এগিয়ে দিচ্ছিলেন। এদিনও তাই হয়েছে। অভিষেক প্রথমে সাবধানী খেললেন। জেকব ডাফির ওভারে দু'টো চার মারলেন ঠিকই, তবে ততটাও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু পরের ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে সজোরে ছক্কা হাঁকাতেই যেন ব্যাটে আত্মবিশ্বাস ফিরে এল। তারপর আর ফিরে তাকাননি। ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। যখন ৫২ রানে ফিরলেন তখন ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে সঞ্জু ফের 'সুপারম্যান'। শুরুটা ধীরেসুস্থে করেছিলেন। তবে একবার গতি পেয়ে যেতেই তাঁকে আর রোখে কে! এদিনও ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে গেলেন। ৮টা ছক্কা ও ৫টা চারে সাজানো তাঁর ইনিংস। কিন্তু এদিনও সেঞ্চুরি পেলেন না। ঈশান কিষানও অনবদ্য। ২৫ বলে ৫৪ রান করে আউট হলেন তিনি। দু'জনে যতক্ষণ একের পর এক বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল, রানটা ৩০০-র কাছাকাছি চলে যেতে পারে। কিন্তু জিমি নিশামের একটা ওভার অনেক অঙ্ক বদলে দিল। ১৬ তম ওভারে সঞ্জু, ঈশান ও সূর্যকুমারের উইকেট তুলে নিলেন তিনি। সূর্য এই ম্যাচেও রান পেলেন না। এরকম ম্যাচে, যেখানে সতীর্থরা এত ভালো মঞ্চ গড়ে দিয়ে গেলেন, সেটাকে যদি অধিনায়ক কাজে না লাগাতে পারেন, তাহলে আর কবে ভালো খেলবেন? এই প্রশ্নটা আরেকটু টেনে নেওয়া যায় হার্দিক পাণ্ডিয়ার 'ফিনিশিং' নিয়েও। তিনি আরেকটু মারকাটারি খেললে হয়তো বিশ্বকাপে ভারতের সব বেশি রানটা হয়ে যেত। যেটা সুপার এইটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে করেছিল ভারত (২৫৬)। সেটা হল না। তবে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা স্লোয়ারে-কাটারে শেষবেলায় দুরন্ত কামব্যাকের সমস্ত পরিকল্পনা একা ভেস্তে দিলেন শিবম দুবে (৮ বলে ২৬)। ১৬-১৯ ওভারের মধ্যে উঠেছিল ২৮ রান। সেখানে শিবম একা শেষ ওভারে তুললেন ২৪ রান। ভারতের ইনিংস শেষ হল ২৫৫ রানে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে এই রানটা তাড়া করা কার্যত অসাধ্য। কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ভারতের বিরাট রানকে প্রায় টেক্কা মেরে দিয়েছিল। আহমেদাবাদের 'কলঙ্ক' ও শিশির, দুই নিয়ে একটা সরু চিন্তার সুতো তো ঝুলছেই। এই রানটা যথেষ্ট হবে তো? নাকি চাপের মুখে নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফিটা পকেটে পুরবে ভারত।
