পাঁচ বছর আগের স্মৃতিগুলো মনে পড়লে এখনও ভাবুক হয়ে পড়েন রায়ান বার্ল। জিম্বাবোয়ের সেই রায়ান, সোশাল মিডিয়ায় যাঁর ছেঁড়া জুতোর পোস্ট নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। রায়ান নিজের শতছিন্ন জুতোর ছবি পোস্ট করে আবেদন করেছিলেন স্পনসরশিপের। করতেনও বা কী? বছর পাঁচ আগে তাঁর জুতোর মতোই যে শতছিন্ন দশা ছিল জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের! না ছিল অর্থ, না ছিল মর্যাদা।
আর আজ? পাঁচ বছর পর? পাঁচ বছর পর জিম্বাবোয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে। অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার এইট খেলছে! বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা হবে না ঠিকই। কিন্তু হৃত গরিমা নিয়ে তো দেশে ফেরা যাবে। একটা সময় যে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটকে লোকে সমীহের দৃষ্টিতে দেখত। যে সময় ফ্লাওয়ার ব্রাদার্স, অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল, হিথ স্ট্রিকরা খেলতেন।
‘‘জাস্টিন স্যামস কোচ হয়ে আসার পর অনেক কিছু বদলে গিয়েছে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটে। উনি দায়িত্ব নিয়ে একটা বৈঠক ডাকেন। একটা বোর্ডে আমাদের লক্ষ্য লিখে দিয়েছিলেন কোচ। যে বোর্ডে লেখা ছিল, বিশ্বকাপের সুপার এইট,’’ চেন্নাইয়ে 'সংবাদ প্রতিদিন'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন বার্ল। কিন্তু শুধুমাত্র চাঁদমারি লিখলে তো চলত না। সেই লক্ষ্যপূরণও করতে হত। যে স্বপ্নের সামনে একজোড়া প্রাচীর ছিল। এক, কেনিয়ায় আঞ্চলিক কোয়ালিফায়ার। দুই, নিজেদের দেশে আফ্রিকান কোয়ালিফায়ার। ‘‘দু’টো ক্ষেত্রেই আমরা সব জিতেছিলাম। তবে হ্যাঁ, একটা সময় জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ক্রিকেটে খারাপ সময়ের মতো ভালো সময়ও আসে। খারাপ সময় থেকে শিক্ষা নিয়েছি আমরা। ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে,’’ যোগ করেন জিম্বাবোয়ে অলরাউন্ডার।
রায়ান বলছেন, "আমরা স্বপ্ন দেখেছি। আমাদের দেশ দেখেছে। টিমের প্রত্যেকে বিশ্বাস করত যে আমাদের ভালো কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। আমরা বিশ্বকাপে ভালো খেলতে পারি। সেই বিশ্বাসই আমাদের সুপার এইটে নিয়ে এসেছে।"
কিন্তু বিশ্বকাপের আগে কি ভাবতে পেরেছিলেন, বিশ্বকাপে এতদূর আসবেন? ‘‘কেন নয়? আমরা স্বপ্ন দেখেছি। আমাদের দেশ দেখেছে। টিমের প্রত্যেকে বিশ্বাস করত যে আমাদের ভালো কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে। আমরা বিশ্বকাপে ভালো খেলতে পারি। সেই বিশ্বাসই আমাদের সুপার এইটে নিয়ে এসেছে,” বলতে থাকেন বার্ল। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকা আর জিম্বাবোয়ে জুড়ে বসছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। যে মেগা টুর্নামেন্টের প্রেরণা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিতে চান তাঁরা।
রায়ান বলছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপের আয়োজন বিশাল ব্যাপার। এটা আমাদের দেশের ক্রিকেটের পক্ষে বিশাল ব্যাপার। যতদূর মনে পড়ছে, ২০০৩ সালে আমাদের দেশ বিশ্বকাপ আয়োজন করছিল। আমরা সুপার সিক্সে খেলেছিলাম। দেশের মাঠে খেললে, ঘরোয়া সমর্থকদের সামনে খেললে একটা সুবিধে তো থাকবেই। টিমকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা তৈরি হবে। সমর্থকদের সমর্থন সবসময় টুয়েলভথ ম্যানের কাজ করে। তাছাড়া ঘরের পরিবেশ আমাদের কাছে চেনা। উইকেট কেমন হবে, সেটা জানি। যেমন ভারতে বিশ্বকাপ হচ্ছে। ওরা কিছুটা হলেও সুবিধে পাচ্ছে। সেটা আমাদের ক্ষেত্রেও হবে।”
কী দাঁড়াল? রায়ান জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের পুনর্জন্ম দেখছেন। দেখছেন নবজাগরণ। দেখছেন, আজ থেকে বছর কুড়ি আগে ফিরে যাওয়া এক সময়কে, যখন সবাই সম্ভ্রমের নজরে দেখতে জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটকে। এবং রায়ান বার্ল সমস্ত স্বপ্নই দেখছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাত ধরে!
